
রিয়াজ ইসলাম, জবি: রাজধানীর সদরঘাটে লঞ্চে প্রবেশকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কয়েক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চের কর্মীদের কথা-কাটাকাটি, মারধর ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরে বিষয়টি মীমাংসার নামে লঞ্চ মালিক সমিতির কাছে জবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামছুল আরেফিনের কিছু কর্মীসহ ছাত্রদলের কয়েকজন ৪০ হাজার টাকা দাবি করে বলে অভিযোগ উঠেছে এবং শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে সদরঘাটের ৪ নম্বর টার্মিনালে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে দুই শিক্ষার্থী ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে প্রবেশের চেষ্টা করেন। সন্ধ্যার দিকে লঞ্চে প্রবেশের সময় কর্মীরা তাদের বাধা দিলে এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ওই দুই শিক্ষার্থী একজন লঞ্চকর্মীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে ঘটনাস্থলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ ও আলিমুল; ইতিহাস বিভাগের ১৮ ব্যাচের সাইদ ও নাইম; থিয়েটার বিভাগের ১৮ ব্যাচের নাইম; আইইআর বিভাগের ১৮ ব্যাচের তাজ এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) ১৮ ব্যাচের বহিষ্কৃত ছাত্রদল কর্মী শের আলী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ ও আলিমুল জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের সমর্থক। পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লঞ্চকর্মীদের ফের ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও লঞ্চকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় লঞ্চের কয়েকজন কর্মীর মোবাইল ফোন ভাঙার অভিযোগও ওঠে।
ঘটনার পর মোবাইল ফোন ভাঙা ও চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে লঞ্চ মালিক সমিতির কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। পরে আলোচনার মাধ্যমে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তি হয় বলে জানা গেছে।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চের এক কর্মী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে কিছু শিক্ষার্থী প্রায়ই সন্ধ্যা বা রাতে লঞ্চে এসে গাঁজা ও বিভিন্ন মাদক সেবন করেন। এ কারণে পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে লঞ্চে প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।
তিনি বলেন, এই ঘটনার পর আমরা লঞ্চ মালিক সমিতির অফিসে বসি। সেখানেও এক দফা কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বৈঠকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়।
প্রিন্স আওলাদ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. জিল্লু বলেন, আর্থিক লেনদেনের কত টাকা নিয়েছে, সেটা আমি বলতে পারছি না। তবে তারা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে টাকা নিয়েছেন। পুরান ঢাকা, বিশেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রদূত ও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তাই আমরা চাই, কেউ যেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট না করে।
লঞ্চটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক যুবরাজ হোসেন বলেন, আজকের ঘটনার পর আমরা একসঙ্গে বসেছিলাম। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় ছাড়া যেন কেউ লঞ্চে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।
এদিকে মীমাংসার নামে টাকা দাবির বিষয়টি জানতে পেরে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এ সময় বাংলাদেশ বুলেটিনের জবি প্রতিনিধি আকাশ আহমেদ রুপম ও পাবলিক নিউজের জবি প্রতিনিধি এটিএম হাসনাত হাবিবের সঙ্গে উপস্থিত ছাত্রদলকর্মীদের বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের জোর করে ঘটনাস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, আমি এ বিষয়ে পুরোপুরি অবগত না। যদি ছাত্র দলের পরিচয় ব্যবহার করে এ চাঁদাবাজি করে তাহলে ছাত্রদল এ দ্বায়ভার নিবে না। তারা ছাত্র দলের কর্মী না৷ আর যদি ছাত্র দলের কেউ থাকে তাহলে ছাত্রদল সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।
অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী শের আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ভেতরে ছিলাম, কিছু জানি না। আমাদের ছোট ভাই সৈকতের সাথে লঞ্চের স্টাফদের ঝামেলা লাগছিলো। আমরা গিয়ে সমাধান করে দিয়েছি।
মন্তব্য করুন