
ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ৫৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরায় ছয় গুণী ব্যক্তিকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে সাতক্ষীরা শহরের শহীদ নাজমুল সরণিস্থ ম্যানগ্রোভ সভাঘরে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সাতক্ষীরা জেলা সংসদ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সংবর্ধিত ব্যক্তিরা হলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী রিয়াজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোস্তফা নুরুল আলম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. মো. মোসলেম, অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবায় অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী গরীবের ডাক্তারখ্যাত চিকিৎসক ডা. এবাদুল্লাহ, বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী আবু আফ্ফান রোজবাবু এবং কণ্ঠশিল্পী চৈতালি মুখার্জি।
অনুষ্ঠানে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সাতক্ষীরা জেলা সংসদের সভাপতি শেখ সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে শেখ মোসফিকুর রহমান মিল্টন ও কবি মৃত্যুঞ্জয় কুমার বিশ্বাসের সঞ্চালনায় শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উদীচী সাতক্ষীরা জেলা সংসদের সংগীতবিষয়ক সম্পাদক বিউটি চক্রবর্তী।
শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন উদীচী সাতক্ষীরার সাধারণ সম্পাদক সুরেশ পান্ডে।
আলোচনা পর্বে বক্তারা উদীচীর দীর্ঘ সংগ্রামী ইতিহাস, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মুক্তবুদ্ধির চর্চা, সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠনটির ভূমিকা তুলে ধরেন।
আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষাবিদ প্রফেসর আব্দুল হামিদ, সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি ড. আক্তারুজ্জামান, আবৃত্তিশিল্পী মনিরুজ্জামান ছট্টু, উদীচীর সহসভাপতি আবুল হোসেন, উন্নয়নকর্মী মাধব দত্ত, সাহিত্য সংস্কৃতি সংস্থার খুলনা বিভাগীয় সভাপতি এস এম আয়ুব আলী, কবি কিশোরী মোহন সরকার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, উদীচী কেবল একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন নয়, এটি দেশের গণমানুষের অধিকার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার দীর্ঘদিনের সংগ্রামের অংশীদার। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে উদীচী গান, নাটক, কবিতা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে অন্যায়-অবিচার, সাম্প্রদায়িকতা, কুসংস্কার ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করে আসছে।
তাঁরা আরও বলেন, সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ব, যুক্তিবোধ, প্রতিবাদী চেতনা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি জাগিয়ে তোলে। একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সময়েও উদীচীর আদর্শ ও কর্মসূচি নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস, দেশপ্রেম, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণে উদীচীর কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
আলোচনা ও সংবর্ধনা পর্বের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশিত হয়। আবৃত্তি করেন মনিরুজ্জামান ছট্টু, সংগীত পরিবেশন করেন আবু আফ্ফান রোজবাবু, চৈতালি মুখার্জি ও অদ্বিতীয়া মুখার্জি। তাঁদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সংগীত ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে উদীচীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং মানবিক মূল্যবোধের নানা দিক ফুটে ওঠে।
অনুষ্ঠানে কবি শুভ্র আহমেদ, বাংলাদেশের জাসদ জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক ইদ্রিস আলি, বাসদের জেলা সমন্বয়ক নিত্যানন্দ সরকার, কবি আবু কাজী, নাট্যশিল্পী শেখ আব্দুল ওয়াহেদ, কাজী মাসুদুল হক, মনিরুল ইসলাম, মুনসুর রহমান, মনিরুজ্জামান মুন্নাসহ সাতক্ষীরার বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী ও উদীচীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন