
ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের ১৯টি উপকূলীয় জেলার জলবায়ু সংকট, স্থানীয় চ্যালেঞ্জ ও জনগণের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার লক্ষ্যে ‘উপকূলের কণ্ঠস্বর থেকে কপ৩১’ শীর্ষক বিশেষ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গ্রিন পিস ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি আয়োজিত এ সংলাপে ৩২৩ জন নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারী এবং ৭৫টিরও বেশি সংগঠনের প্রতিনিধি যুক্ত হন।
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. খায়রুল ইসলাম মুন্না। সঞ্চালনা করেন খাদিজাতুল খুশবু। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জলজ প্রাণিসম্পদ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী, এনএসএসের নির্বাহী পরিচালক শাহাবুদ্দিন পান্না, সিবিডিপির নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মিরাজ, ইয়ুথনেট গ্লোবালের প্রতিষ্ঠাতা ও জাতীয় সমন্বয়ক সোহানুর রহমান এবং ব্রাইটার্সের চেয়ার ফারিহা অউমি।
সংলাপে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। এগুলো হলো উপকূলীয় বাংলাদেশের জলবায়ু অভিযোজন, জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন, জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি, জলবায়ু অর্থায়ন, জলবায়ু বিষয়ে সচেতনতা ও অংশগ্রহণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধি। উপকূলীয় জেলার প্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকার জলবায়ু ঝুঁকি, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা, জীবিকা ও পরিবেশের ওপর প্রভাব এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশ তুলে ধরেন।
আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য পৃথক ও প্রয়োজনভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য অভিযোজন কার্যক্রমে পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সহজলভ্য ও কার্যকর তহবিল নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে উপকূলীয় অবকাঠামো সুরক্ষা, লবণাক্ততা মোকাবিলা, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, কৃষি ও জীবিকার সুরক্ষা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুপারিশ উঠে আসে।
বক্তারা আরও বলেন, জাতীয় জলবায়ু নীতি ও অর্থায়ন পরিকল্পনায় উপকূলীয় অঞ্চলের স্বতন্ত্র ঝুঁকি ও প্রয়োজনকে বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হবে। সারা দেশের জন্য জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার বাস্তবতা অনুযায়ী পৃথক অগ্রাধিকার ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনের ক্ষেত্রেও উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া জলবায়ু শিক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নীতিনির্ধারণে তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণ, জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তির সহজপ্রাপ্যতা এবং স্থানীয় সংগঠন ও জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে সুপারিশ তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা।
উন্মুক্ত মতবিনিময় ও প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরা তাঁদের অভিজ্ঞতা, দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।
সংলাপে উঠে আসা আলোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশের উপকূলের কণ্ঠস্বর’ শীর্ষক একটি পুস্তিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর বাস্তব অভিজ্ঞতা, জলবায়ু সংকট, অগ্রাধিকার এবং নীতিগত সুপারিশ সংকলন করা হবে। পরবর্তী সময়ে পুস্তিকাটি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, জাতীয় নীতিনির্ধারক এবং বাংলাদেশের কপ৩১ প্রতিনিধিদলের কাছে উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
আয়োজনটিতে সহযোগিতা করে এনএসএস, সিবিডিপি এবং ডিআরডিএফ। পাশাপাশি বিভিন্ন উপকূলীয় জেলার অংশগ্রহণকারী ও সহযোগী সংগঠনগুলো সংলাপ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখে।
আয়োজকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য সুনির্দিষ্ট অগ্রাধিকার, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন। উপকূলের মানুষ কেবল জলবায়ু সংকটের ভুক্তভোগী নয়; তাঁদের অভিজ্ঞতা, স্থানীয় জ্ঞান ও মতামত জলবায়ু নীতি প্রণয়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। এ উদ্যোগের মাধ্যমে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত দাবিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকেরা।

মন্তব্য করুন