
ডেস্ক রিপোর্ট: ২২ শে শ্রাবণ- বাংলা সাহিত্যের এক বিয়োগান্তক দিন। এদিনেই চিরবিদায় নিয়েছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই মহান শিল্পসাধকের ৮৪তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মেলন পরিষদ, সাতক্ষীরা শাখা আয়োজন করে স্মরণসভা, রবীন্দ্রসঙ্গীত, আবৃত্তি ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বুধবার (৬ আগস্ট) সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের আহ্বায়ক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট সংস্কৃতিজন মোস্তফা নুরুজ্জামান।
বিশ্বকবির শিল্পকর্ম নিয়ে আলোচনা করেন কবি ও প্রাবন্ধিক অধ্যাপক শুভ্র আহমেদ ও জেলা কালচারাল অফিসার ফাইজা হোসেন অন্বেষা।
অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় কবিগুরুর কালজয়ী গান- ‘তুমি রবে নিরবে হৃদয়ে মম’, ‘আমার মাথা নত করে দাও’, ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে’ যা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের অন্তরে ছুঁয়ে যায়।
আলোচকরা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধুই একজন কবি নন, তিনি ছিলেন মানবতার দূত, বাঙালির আত্মপরিচয়ের উৎস। তাঁর সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন আজও আমাদের প্রেরণার উৎস, সংকট ও সংশয়ের অন্ধকারে আলোকবর্তিকা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে রবীন্দ্রভাবনা ছড়িয়ে দেওয়াই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
অনুষ্ঠানে আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশন করেন মিতু (রোগশয্যা), আগমনী বর্মণ (আমি মারের সাগর পারি দেব), মনীষা মন্ডল (আমার পথ চলাতে আনন্দ), অন্বেষা (নৃত্য: মন মোর মেঘেরও সঙ্গী), অগ্র (আবৃত্তি: অন্তর মম বিকশিত করো) প্রমুখ।
একক সংগীত ‘হে ক্ষণিকের অতিথি’ পরিবেশন করেন জাকু। সমবেতভাবে পরিবেশিত হয় ‘আগুনের পরশমণি’ ও ‘নীল দিগন্তে’ গান দুটি।
জেলা কালচারাল অফিসার ফাইজা হোসেন অন্বেষা বলেন, মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তেও রবীন্দ্রনাথ জীবনের জয়গান গেয়েছেন। তিনি চেয়েছিলেন মানবতার অভ্যুদয়, সংকীর্ণতা নয়, বিশ্বমানবের ঐক্যই ছিল তাঁর দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু।
সমাপনী বক্তব্যে শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন বলেন, রবীন্দ্রনাথ অতীত নন, তিনি বর্তমান ও ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা। তাঁর গান, কবিতা, চিন্তা ও দর্শন আমাদের পথ দেখাক, আমাদের জীবন সার্থক করুক।
অনুষ্ঠান জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী, আবৃত্তিকার, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের সংস্কৃতিমনা মানুষের অংশগ্রহণে স্মরণ করা হয় বিশ্বকবিকে।
মন্তব্য করুন