বাংলাদেশ, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
১৩ আগস্ট ২০২৫, ৮:১১ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

অগ্নিদগ্ধ মানবতা আর চারিদিকে নিদারুন নীরবতা || মার্জিয়া আলম রিতু

একটা সময় আমরা মানুষের চোখে চোখ রাখতাম। পাড়ার কারো ঘরের দরজা বন্ধ দেখলে চিন্তা করতাম- ‘আচ্ছা, উনি কি অসুস্থ?’। আর এখন আমরা শুধু নিজের দরজা বন্ধ করি। পাশের বাড়ির কষ্ট কিংবা কারো কান্না, আমাদের স্পর্শ করে না।

একটি সমাজের পরিচয় প্রকাশ পায় সে সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণে, তার মূল্যবোধ ও সহানুভূতিতে। অথচ আজকাল মনে হয় সবচেয়ে সংকটে আমাদের মানবিকতা যা একসময় ছিল আমাদের গৌরব। আমরা এখন উন্নয়নের মহাসড়কে দৌড়াচ্ছি। ইট কংক্রিটের শহর ছুঁয়ে ফেলেছে আধুনিকতার শিখর। ঘরে ঘরে ইন্টারনেট, হাতে হাতে স্মার্টফোন, চোখে চোখে চশমার আড়ালে প্রযুক্তির আলো। কিন্তু সেই আলোতে আমাদের হৃদয়ের আলো নিভে যাচ্ছে না তো?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশ করলেই আজকাল সবচেয়ে বেশি দেখা যায় দুর্ঘটনার ছবি। আগুনে পুড়ে যাওয়া শিশু কিংবা লাশের পাশে কান্নারত মায়ের মুখ। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই ছবি আমরা দেখি কেন? দুঃখ বোধের জন্য নাকি বিনোদনের জন্য? একজন বিপদগ্রস্ত মানুষ সাহায্য চায় আর আশেপাশে দাড়িয়ে আমরা শুধু ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি করি। আমাদের শহরে ইমারত যতটা উঁচু হয়েছে ততটা আমাদের হৃদয়ের দেওয়ালও যেন পাথর হয়ে গেছে। মানবিকতা আজ শুধু বক্তৃতায়, কবিতায় কিংবা রাষ্ট্রীয় দিবসে। প্রতিদিনের জীবনে তার জায়গা কোথায়?

একজন শিশু আগুনে পুড়ে যাওয়া দেহ নিয়ে যখন প্রাণপন ছুটছে বাঁচার তাগিদে তখন তাকে সহযোগিতা করার পরিবর্তে আমরা সেই হৃদয়বিদারক দৃশ্যটিকে ক্যামেরায় বন্দি করতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছি। এই বাস্তবতায় মনে প্রশ্ন জাগে আসলে আমরা সভ্যতার কোন স্তরে আছি?

যে সমাজে একজন নারী নির্যাতনের শিকার হন অথচ লোকজন নির্বাক দাঁড়িয়ে সে দৃশ্য অবলোকন করে সে সমাজ কি উন্নত? নাকি অধঃপতনের কিনারে? আদিকাল থেকে মানুষ সমাজবদ্ধ হয়েছে একে অপরকে সাহায্য করার জন্য। বিপদে আপদে, সুখে দুঃখে পাশে থাকার মধ্যেই গড়ে উঠেছে সমাজ ও সভ্যতা। অথচ এখন কেউ রাস্তায় পড়ে থাকলে আমরা হয়তো এক পা এগিয়ে আবার দুই পা পিছিয়ে আসি ঝামেলা এড়িয়ে যাওয়ার ভাবনায়। কিন্তু সত্যিই আমরা ঝামেলামুক্ত জীবন যাপন করতে পারছি? আমাদের শিশুরা বই পুস্তকে পড়ে ‘একে অপরকে সাহায্য কর, অপরের দুঃখে সহানুভূতিশীল হও’ কিন্তু বাস্তব জীবনে দেখে অন্যের বিপদে মানুষ কিভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

আমরা আজ আকাশচুম্বি বিল্ডিং বানাতে পারি, ব্রিজ বানাতে পারি, মেট্রোরেল চালাতে পারি, কিন্তু ভালোবাসা, সহানুভূতি, মমতা কি বলতে পারি? এসব তৈরি হয় মন ও বিবেক থেকে। আর সেই বিবেক যদি বিলুপ্ত হয়ে যায় তাহলে উন্নয়ন বিপর্যয় ডেকে আনবে। তাই আজকের এই সমাজে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মনুষ্যত্বের চর্চা ও মানবিক মূল্যবোধের উন্নয়ন। আমাদের শিশুদের শিখাতে হবে শুধু গণিত নয়, শিখাতে হবে মানবতা। শুধু অট্টালিকা বানালেই চলবে না উন্নত করতে হবে মন ও মানসিকতা। তবেই ভাঙবে এই নিদারুন নীরবতা।

লেখক: প্রভাষক, সমাজ বিজ্ঞান ও সমাজ কর্ম বিভাগ, গণ বিশ্ববিদ্যালয়

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় সাতক্ষীরা শহরের বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া মানুষ: খানি

১

ভিডিএফের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি বাগেরহাটের শুভ্র, সম্পাদক সাতক্ষীরার হোসেন আলী

২

সার্ভার থেকে উধাও মৌজা, ৩ বছর ধরে ভোগান্তিতে মানুষ!

৩

দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ, ৩ দফা গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু

৪

পাইকগাছায় কপোতাক্ষ নদের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এমপি আবুল কালাম আজাদ

৫

কালিগঞ্জ ও আশাশুনির ১১০টি মণ্ডপে সরকারি বরাদ্দের চাল বিতরণ

৬

সাতক্ষীরা সীমান্তে আড়াই কোটি টাকা মূল্যের ক্রিস্টাল মেথ আইস জব্দ

৭

ধুমঘাট হাঁসারচক কমিউনিটি ক্লিনিক নিজেই যেন রোগী

৮

টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালে আগুন নিয়ন্ত্রণে ২৩ ইউনিট, সেনা ও বিজিবি মোতায়েন

৯

সাতক্ষীরায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন, বাতিলের দাবি 

১০

প্রথম ধাপে ৮০০ ইউপিতে ভোট, বিশৃঙ্খলায় তাৎক্ষণিক শাস্তির বিধান

১১

শ্যামনগরের মোস্ট ওয়ান্টেড মেহেদী ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার

১২

শ্যামনগরে দায়ের কোপে আহত মোজাম মিস্ত্রির মৃত্যু

১৩

পাইকগাছায় দৈনিক রানার’র ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

১৪

শ্যামনগরে যুবদের জলবায়ু পরিবর্তন, অভিযোজন ও প্রশমন বিষয়ক প্রশিক্ষণ

১৫

দেবহাটায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

১৬

দেবহাটায় নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

১৭

বয়েজ স্কুলের খেলার মাঠের বেহাল দশা, দ্রুত সংস্কারের দাবি

১৮

সাতক্ষীরা জেলা জাপার সভাপতি আজহার হোসেনের সুস্থতায় দোয়া কামনা

১৯

শ্যামনগরে দৈনিক রানারের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

২০