বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
২৭ অক্টোবর ২০২৫, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে উধাও সাদিক জনকল্যাণ সমিতির পরিচালক হামিদ

মেহেদী হাসান শিমুল: সাতক্ষীরা আদালতপাড়া ও রেজিস্ট্রি অফিসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সাদিক জনকল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতির পরিচালক আব্দুল হামিদ গ্রাহকের কোটি টাকা আত্মসাৎ করে অফিসে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে গেছেন।

সাতক্ষীরা জজ কোর্ট সংলগ্ন এক আইনজীবীর বাসাবাড়ির নিচতলায় অফিস ভাড়া নিয়ে শুরু হয় এই প্রতারণা। বাহ্যিক চাকচিক্যে ভরা অফিসে ব্যাংকের মতোই রেকর্ডবুক, প্যাড, চেকবই ও সঞ্চয়পত্র সাজিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

জানা গেছে, ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে অফিস খোলার পর থেকেই সাদিক জনকল্যাণ সমিতি সাতক্ষীরা আদালতের কর্মকর্তা, আইনজীবী, আইনজীবী সহকারী ও রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মচারীদের লক্ষ্য করে উচ্চ লভ্যাংশ ও সহজ ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে ‘ডিপিএস’, ‘এফডিআর’ ও ‘সঞ্চয়পত্র’ খুলতে গ্রাহকদের উদ্বুদ্ধ করেন। প্রথম দিকে নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদান করলেও ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর থেকে ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় তাদের কার্যক্রম। গত ৫ আগস্টের পর হঠাৎ অফিসে তালা পড়ে যায়- তখনই প্রকাশ্যে আসে এই সমিতির কোটি টাকার প্রতারণার কাহিনি।

জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আব্দুল হামিদের পর সবচেয়ে বেশি সদস্য সংগ্রহে ভূমিকা রাখেন ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক। এছাড়া নারী কর্মীদের সামনে রেখে গ্রাহকদের আস্থা অর্জনের বিশেষ কৌশল অবলম্বন করা হয়। আদালতপাড়ার অফিস রুমগুলো একসময় যাদের পদচারণায় মুখরিত ছিল, এখন তাদের কাউকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

একজন আইনজীবী সহকারী নাম প্রকাশ না করে জানান, আমি ১২ লাখ টাকা এফডিআর করেছিলাম। প্রথম দিকে কিছু লভ্যাংশ পেয়েছি, পরে অফিস বন্ধ করে উধাও হয়ে গেছে। ফোনেও যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না।

অবসরপ্রাপ্ত পেশকার আব্দুল মুকিত বলেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে তারা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এখন অফিসে তালা। আমার কাগজপত্র সবই আছে- প্রয়োজনে মামলা করব।

জানা যায়, জজ কোর্ট ও রেজিস্ট্রি অফিস এলাকার প্রায় তিন শতাধিক বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে কোটি টাকারও বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে এই প্রতারক চক্র।

একজন গ্রাহক জানান,. তাদের সবকিছুই ছিল পরিকল্পিত। নারী কর্মীরা গ্রাহকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতো। নতুন গ্রাহকের টাকা দিয়ে পুরনো গ্রাহককে লভ্যাংশ দেওয়া হতো। যখন নতুন টাকা আসা বন্ধ হয়, সবাই পালিয়ে যায়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চক্রের মূল হোতা আব্দুল হামিদ দেবহাটা উপজেলার আতাপুর গ্রামের মৃত মাদার ঢালির ছেলে। ২০২৪ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এক প্রতিবেশী জানান, আগে মাঝেমধ্যে বাড়ি আসত, এখন মাসের পর মাস দেখা যায় না। কেউ বলে বিদেশ গেছে, কেউ বলে ঢাকায় লুকিয়ে আছে।

সাতক্ষীরা সদর সমবায় কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, সাদিক জনকল্যাণ সমিতি নামে কোনো অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান আছে কিনা জানা নেই। রেকর্ড দেখে বলতে পারবো।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টানা পাঁচ উইকেট-মেডেন ওভার, গ্রিভসের অলৌকিক বিশ্বরেকর্ড

ওয়ানডে অধিনায়ক হচ্ছেন লিটন

সেনা হেফাজতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ

বাধ্যতামূলক অবসরে ৩২ যুগ্মসচিব

আর্থ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের মর্যাদাপূর্ণ ফে‌লো‌শিপ পে‌লেন আহসান রাজীব

শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণায় আনন্দ মিছিল

সাতক্ষীরায় জুলাই শহীদদের স্মরণে জামায়াতের আলোচনা

ভূমিহীন নেত্রী শহীদ জায়েদার স্মরণসভা

সাতক্ষীরায় সপ্তাহব্যাপী মাদক বিরোধী অভিযানের ঘোষণা

সোলাইমান কবির ও আশেক এলাহী মুন্নার নেতৃত্বে শ্যামনগরে বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি

১০

দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন: মির্জা ফখরুল

১১

যে ৩৫ দেশে ভিসামুক্ত-অন অ্যারাইভাল সুবিধা পাবেন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা

১২

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দেশে বিনিয়োগ সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৩

জাতীয় অধ্যাপক হলেন ড. মাহবুব উল্লাহ

১৪

কয়রায় গাছের চারা বিতরণ ও বসতবাড়ি উদ্বোধন

১৫

নিমে বাঁচে দাঁত ও পরিবেশ || ‎তারিক ইসলাম

১৬

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে মিয়াওকি বনায়নে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

১৭

রোগী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা

১৮

৩ শর্তে লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল

১৯

খুলনায় রেজাউল হত্যা: তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

২০
error: Content is protected !!