
মাসুদ পারভেজ, কালিগঞ্জ: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো: রেজাউল করিম বলেছেন, হজরত খানবাহাদুর আহছানউল্লা (র.) ছিলেন বাঙালি মুসলিম সমাজের বুদ্ধিভিত্তিক জাগরণ, শিক্ষাপুনর্গঠন ও আধ্যাত্মিক মানবচেতনার এক উজ্জ্বল দিগন্তপ্রসারী ব্যক্তিত্ব। ব্রিটিশ-ভারতের অন্ধকারাচ্ছন্ন ও পশ্চাদপদ মুসলিম সমাজকে আধুনিক শিক্ষার আলোকভুবনে পৌঁছে দিতে তিনি যে নিরলস সাধনা ও কর্মনিষ্ঠ সংগ্রাম করেছেন, তা ইতিহাসে এক অনন্য পুনর্জাগরণের দৃষ্টান্ত।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সাতক্ষীরার নলতা শরীফ প্রাঙ্গণে খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) এর ১৫২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশন আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের নব নির্বাচিত সভাপতি এ.এইচ.এম মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে ও খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো: মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, বিশিষ্ট আহ্ছানউল্লা গবেষক প্রবন্ধকার এ.এফ.এম এনামুল হক। মূল আলোচক ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরাসী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: আহসানুল হাদি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক ড. কাজী আলী আজম।
প্রধান অতিথি আরো বলেন, নারীশিক্ষা বিস্তার, গ্রামীণ সমাজের উন্নয়ন, শিক্ষক- প্রশিক্ষণ, বৃত্তি ব্যবস্থা এবং শিক্ষাঙ্গনে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিসহ সব ক্ষেত্রেই তাঁর অবদান ছিল যুগান্তকারী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজ গঠন, রাজশাহীতে ফুলার হোস্টেল নির্মাণ থেকে শুরু করে ‘আহছানিয়া মিশন’-এর প্রতিষ্ঠা প্রতিটি উদ্যোগেই প্রতিফলিত হয়েছে তাঁর মানবকল্যাণমুখী দৃষ্টি ও সমাজরূপান্তরমুখী মনন।
তিনি বলেন, ধর্মীয় কুসংস্কার দূরীকরণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং উদার আধ্যাত্মিক দর্শনের প্রচারে তিনি ছিলেন এক শান্তকণ্ঠ সত্যদ্রষ্টা। ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর প্রয়াণ বাঙালির মননভুবনে এক যুগের অবসান ঘটায়, তবে তাঁর কর্ম, দর্শন ও প্রজ্ঞা আজও জাতির নৈতিক পুনর্জাগরণের চিরন্তন আলো হয়ে বিরাজমান।
সেমিনারে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, খুলনা খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মো. আনিসুর রহমান, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের পরিচালক ইকবাল মাসুদ, কবি ও সাহিত্যিক অধ্যাপক গাজী আজিজুর রহমান প্রমুখ।
সেমিনারে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.)-এর জীবন ও কর্ম, শিক্ষাদর্শন, নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিক চিন্তাধারাকে আধুনিক গবেষণার মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপস্থাপনের জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশিষ্ট গবেষক ড. একরাম হোসেনকে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা পুরস্কার প্রদান করা হয়। এসময় অতিথিরা তার হাতে পুরস্কার হিসেবে স্বর্ণপদক, এক লক্ষ টাকা, সম্মাননা স্মারক ও সনদ তুলে দেন।

মন্তব্য করুন