
ডেস্ক রিপোর্ট: বিশ্ব ফুটবলের দেবদূত লিওনেল মেসি। পায়ের জাদুতে নেইমার, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে, লামিনে ইয়ামালরাও এখন মহাতারকা। পুরো বিশ্বে মানুষের অন্তরে ফুটবলকে গেঁথে দিয়েছেন তারা। ফুটবলের পাশাপাশি বিশ্বের কমবেশি প্রায় সব দেশই এখন বিভিন্ন খেলায় এগিয়ে রয়েছে। খেলোয়াড়রা নিজেদের দেশকে যেমন অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন, ঠিক তেমনই অবদান রাখছেন অর্থনীতিতেও। বাংলাদেশও ফুটবল প্রেমে মাতোয়ারা।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও প্রশ্ন থেকে যায়, খেলাধুলায় ঠিক কতটা এগিয়েছে দেশ? একটু চোখ মেললেই দেখা যায়, খেলার প্রতি শিশু-কিশোরদের কতটা অনুরাগ। অথচ তাদের গড়ে তোলার মতো কাঠামো নেই। নেই পর্যাপ্ত উদ্যোগও। ফোটার আগেই নিভে যায় অনেক ফুল। আড়ালেই থেকে যায় অগণিত প্রতিভা।
এইসব প্রতিভাকে ফুটিয়ে তুলতে যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তা বসুন্ধরা গ্রুপ। যে স্বপ্নের কথা একবারও ভাবেনি কেউ, সেটাই আজ দৃশ্যমান। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ভেতরেই ৩০০ বিঘা জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে স্পোর্টস সিটি। বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে যেন বিস্ময়ের শেষ নেই। এখানে রয়েছে ফুটবলের নতুন ইতিহাস গড়া অত্যাধুনিক স্টেডিয়াম কিংস অ্যারেনা। আছে বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। যেখান থেকে উঠে আসতে পারে আগামীর তারকারা।
মিক্সড মার্শাল আর্টস, বক্সিং, থাই বক্সিং ও কিকবক্সিংয়ের মতো রোমাঞ্চকর কমব্যাট স্পোর্টসের জন্য এখানে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা জুলকান ইনডোর অ্যারেনা। রয়েছে অভিজাত স্পোর্টস প্যাডেল টেনিস, স্কোয়াশ ও ব্যাডমিন্টনের একাধিক কোর্ট। বিশ্বজুড়ে খ্যাত আমেরিকান ফিটনেস চেইন ব্র্যান্ড গোল্ডস জিমও রয়েছে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে। অলিম্পিক সাইজের সুবিশাল সুইমিং কমপ্লেক্স, একাধিক স্পা; কী নেই এখানে!
বিস্ময় জাগানিয়া সাউথ জোনে রয়েছে বাস্কেটবল, কাবাডি, ভলিবল, ফুটসাল, চিত্তাকর্ষক রোলার স্কেটিং। সবুজে ঘেরা আন্তর্জাতিক মানের গলফ ড্রাইভিং রেঞ্জ ও একটি পূর্ণাঙ্গ হকির মাঠও আছে। সব মিলিয়ে এটি যেন একটি সম্পূর্ণ স্পোর্টস ইকোসিস্টেম। পুরো স্পোর্টস সিটি ঘুরে দেখার পর আপনার মনে হতেই পারে, একসঙ্গে এতকিছু কী করে সম্ভব!
একটি সাধারণ স্টেডিয়াম গড়তে লাগে মাত্র কয়েক একর জায়গা। তবে একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের জন্য দরকার পড়ে কয়েকটি মাঠের। কিন্তু সুবিশাল বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে ১৭ ধরনের খেলার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে ২৪টি আন্তর্জাতিক মানের স্থাপনা। স্পোর্টস সিটির সাড়া জাগানো এত আয়োজন বদলে দিয়েছে গোটা দেশের ক্রীড়া মানচিত্র। আর এই যুগান্তকারী উদ্যোগের স্বপ্নদ্রষ্টা হলেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। তারই উদ্ভাবনী চিন্তার ফসল দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ক্রীড়া কমপ্লেক্স। এটি দেশের একমাত্র স্বয়ংসম্পূর্ণ স্পোর্টস সিটি।
বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান সৃজনশীল উদ্যোক্তা হিসেবে খ্যাতি ছড়িয়েছেন আগেই। এবার নিজের আরো এক নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিলেন স্পোর্টস সিটি গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে। এতে কেবল কিছু স্থাপনাই তৈরি হয়নি, এর মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশের এক অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
সবুজ শ্যামল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ভিন্নমাত্রা এনে দিয়েছে এই স্পোর্টস সিটি। আমরা ঘুরে দেখেছি একের পর এক মাঠ। চোখ জুড়ানো সব অত্যাধুনিক স্থাপনা যেন একুশ শতকের ‘স্টেইট অব আর্ট’। বাংলাদেশের ফুটবলে এক নতুন ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে এই স্পোর্টস সিটি। এখানে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে ফুটবল স্টেডিয়াম কিংস অ্যারেনা, যা ইউরোপিয়ান ক্লাব মানের আদলে গড়া।
বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদের মতো বিশ্বমানের ক্লাবগুলো যে আয়তন ও সুবিধাসম্পন্ন মাঠ ব্যবহার করে, ঠিক সেভাবেই সাজানো হয়েছে কিংস অ্যারেনা। দেশের পেশাদার ফুটবলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘বসুন্ধরা কিংস’ হোম ভেন্যুতে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ আয়োজন করার ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছে।
শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার কোনো ক্লাব নিজেদের মাঠে ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ম্যাচ আয়োজন করতে পারেনি। সে হিসেবে বসুন্ধরা কিংস দক্ষিণ এশিয়ায় এক মাইলফলক স্পর্শ করছে। ইতিমধ্যেই এই অ্যারেনার সবুজ গালিচায় পা পড়েছে অস্ট্রেলিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানের মতো আন্তর্জাতিক দলগুলোর। এখানেই অনুষ্ঠিত হয়েছে মেয়েদের সাফ টুর্নামেন্টের রোমাঞ্চকর সব ম্যাচ। এমনকি জাতীয় স্টেডিয়ামের সংস্কারকালীন দীর্ঘ সময়ে এই কিংস অ্যারেনাই হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের গর্বের হোম ভেন্যু।
শুধু ফুটবলেই নয়, ক্রিকেটেও রাখা হয়েছে বিশাল চমক। স্পোর্টস সিটিতে রয়েছে ৫টি সেন্টার উইকেট ও ১২টি টার্ফ পিচ। সবুজ মাঠ, দুদিকে খোলা গ্যালারি নিয়ে দোতলা প্যাভিলিয়ন। সুবিশাল ইনডোর, আউটডোর পিচ গোটা দেশেই এমন ক্রিকেট অবকাঠামো খুব বেশি নেই। সাউথ জোনে নির্মাণ হচ্ছে ২৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। আর এর ঠিক পাশেই রয়েছে অ্যাথলেটিকস ট্র্যাক, অনুশীলন মাঠ ও ইনডোর নেট প্র্যাকটিসের মতো সুবিধা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নতুন ভেন্যু হিসেবে অভিষেক হয়েছে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের। মালয়েশিয়া দলের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। এতে বসুন্ধরায় লেখা হয়েছে নতুন এক ইতিহাস।
পাশাপাশি এখানে গড়ে তোলা হয়েছে ‘বসুন্ধরা ক্রিকেট নেটওয়ার্ক’। শিশুদের খেলা শেখানোর জন্য এটি একটি বিশ্বমানের একাডেমি। খুদে ক্রিকেটারদের সারা বছর অনুশীলনের জন্য বিস্তীর্ণ আউটডোর পিচের পাশাপাশি রয়েছে বিশাল এক ইনডোর সুবিধা। স্পোর্টস সিটিতে চমকের শেষ নেই। এখানে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের গলফ ড্রাইভিং রেঞ্জ, যেখানে গলফাররা নিজেদের স্কিল ঝালিয়ে নিতে পারেন। আছে একটি পূর্ণাঙ্গ হকি মাঠ, যা দেশের হকি খেলোয়াড়দের জন্য এক নতুন আশার আলো।
আমেরিকার বিখ্যাত গোল্ডস জিম সুবিধাও আছে এখানে। বিশ্বখ্যাত ইতালীয় ব্র্যান্ড টেকনোজিমের সরঞ্জামে সজ্জিত তিনতলা এই জিমনেশিয়াম। হিমালয়ান সল্ট বাথ, সনা, জ্যাকুজি, স্টিম রুম সবই আছে এক ছাদের নিচে। অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের পাশাপাশি ফিটনেস ধরে রাখতে এখানে রয়েছে কার্ডিও, দলীয় ব্যায়াম ও ইয়োগার ব্যবস্থা।
নারী ও পুরুষের আলাদাভাবে সাঁতারের জন্য রয়েছে অলিম্পিক স্ট্যান্ডার্ড সুইমিংপুল। ৫০ মিটারের পুলটি প্রতিযোগিতামূলক সাঁতারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে, পাশাপাশি রয়েছে আলাদা পুল ও ডাইভিং সুবিধা। এখানে রয়েছে সুবিশাল সুইমিং কমপ্লেক্স। এটি যে শুধু সাঁতার কাটার জন্য তাই নয়; এই কমপ্লেক্সের ভেতরে তায়কোয়ানদো এবং জুডো খেলার জন্য রয়েছে ডেডিকেটেড ফ্লোর এবং ম্যাট। বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির বিশালতাকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে এর এক লাখ বর্গফুটের সুবিশাল ইনডোর কমপ্লেক্স। কল্পনা করুন তো, এক ছাদের নিচেই সাজানো আছে একসঙ্গে ২৪টি ব্যাডমিন্টন কোর্ট!
চমকের এখানেই শেষ নয়; আধুনিক ব্যবস্থাপনায় এই কোর্টগুলোকে রূপান্তর করে আয়োজন করা যাবে একসঙ্গে আটটি মিনি ক্রিকেট ম্যাচ। ইনডোরের এই বিশাল আয়োজনে আরো রয়েছে অভিজাত স্পোর্টস প্যাডেল টেনিসের ১৬টি দৃষ্টিনন্দন কোর্ট এবং বাস্কেটবল খেলোয়াড়দের জন্য আন্তর্জাতিক মানের কাঠের ফ্লোরে তৈরি অত্যাধুনিক কোর্ট। আউটডোরেও রয়েছে খেলাধুলার দারুণ সব আয়োজন। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য রয়েছে তিনটি কৃত্রিম টার্ফ সমৃদ্ধ ফুটসাল গ্রাউন্ড।
স্পোর্টস সিটির বিশালতা এখানেই শেষ নয়। মূল ক্রিকেট কমপ্লেক্স পেরিয়ে একটু সামনের দিকে এগোলেই দেখা মিলবে সাউথ জোনের বির্স্তীণ পরিসর। এই জোনে গড়ে উঠেছে আরো একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কমপ্লেক্স। এখানে তরুণদের জন্য রয়েছে দুটি আধুনিক ফুটসাল মাঠ এবং একটি ডেডিকেটেড রোলার স্কেটিং জোন।
দেশীয় খেলাগুলোকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এখানে স্থাপন করা হয়েছে দুটি করে কাবাডি ও ভলিবল কোর্ট। সেই সাথে রয়েছে তিনটি বাস্কেটবল কোর্ট। অর্থাৎ, একজন ক্রীড়াবিদ যে খেলার সাথেই যুক্ত থাকুন না কেন, তার জন্য সর্বোচ্চ মানের সুবিধা নিশ্চিত করেছে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি।
দক্ষিণ এশিয়ায় এমন মেগা স্পোর্টস অ্যারিনার উদাহরণ আরেকটি নেই। ভারতের বড় ক্লাবগুলোর নিজস্ব স্টেডিয়াম নেই। পাকিস্তানের ক্রীড়া অবকাঠামো মূলত সরকারি। শ্রীলঙ্কায়ও বেসরকারি উদ্যোগে এত বড় ক্রীড়া নগরী গড়ে ওঠেনি। অন্যান্য দেশে স্পোর্টস কমপ্লেক্সগুলো সাধারণত সরকারি অর্থায়নে ধাপে ধাপে নির্মিত হয়। কিন্তু বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি একটি একক বেসরকারি উদ্যোগে, একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যানের অধীনে তৈরি হয়েছে। প্রতিটি মাঠের ড্রেনেজ সিস্টেম থেকে শুরু করে ফ্লাডলাইট, ড্রেসিংরুম এবং গ্যালারি—সবকিছুই ইউরোপ ও আমেরিকার বিখ্যাত স্পোর্টস ভিলেজগুলোর আদলে তৈরি।
বিশাল এক কর্মযজ্ঞ আর বিপুল বিনিয়োগের পেছনে কাজ করেছে একটি সুস্থ জাতি ও সম্ভাবনাময় প্রজন্ম গড়ার সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের বড় ভাই আবদুস সাদেক ছিলেন বাংলাদেশ হকির জাতীয় দলের অধিনায়ক ও ক্রীড়া সংগঠক। বড় ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান নিজেও একজন প্রসিদ্ধ খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন। খেলাধুলার প্রতি এই পারিবারিক অনুরাগই আজকের এই স্পোর্টস সিটি গড়ে ওঠার মূলমন্ত্র।
এই বিস্ময়কর ও যুগান্তকারী উদ্যোগের আরেক কারিগর বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ-এবিজির চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর। খেলাধুলার প্রতি তার নিখাদ ভালোবাসা আর আন্তরিকতার ফসলই বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি।
কে জানে, এই বসুন্ধরা আবাসিকের প্রান্তজুড়ে যে ক্রীড়াচর্চার অভয়ারণ্য গড়ে তোলা হয়েছে, সেটি হবে আগামীর বাংলাদেশের আসল আত্মপরিচয়! কে বলতে পারে, এখানকার মৃত্তিকা ও নির্সগের আলো-বাতাসে তৈরি হওয়া একেকজন ক্রীড়ামোদী কিংবা খেলোয়াড়ই লিখবে নতুন বাংলাদেশের সাফল্যগাথা, আত্মঅহংকারের আরেক উপাখ্যান!
এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে একজন বিশ্বসেরা ফুটবলার মেসি, নেইমার, রোনালদো, এমবাপ্পে, ইয়ামালদের জন্য শোর উঠে। আনন্দ-চিৎকার, উল্লাস-উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে তাদের জন্য।
হয়তো সেদিন আর বেশি দূরে নয়, যখন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার প্রত্যন্ত গ্রামে, স্পেন কিংবা প্যারিসের রাস্তায় বিদেশিরা মাতম করবে বাংলাদেশের তারকাদের নাম ধরে। হয়তো সেদিন বেশি দূরে নয়; এখানের একেকজন ক্রিকেটার, হকি-বাস্কেটবল প্লেয়ার, বক্সার, অ্যাথলেটস দাপিয়ে বেড়াবে বিশ্বমঞ্চ। হয়তো এই বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিই বাংলাদেশের হয়ে লিখবে বাংলাদেশের খেলার জগতের আরেক ইতিহাস। অবাক বিস্ময়ে দেখবে বিশ্ব!
মন্তব্য করুন