
মাসুদ পারভেজ, কালিগঞ্জ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের ১২টি ইউনিয়নের ৫৫টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
আগামী শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারের দুর্গোৎসব। দুর্গাপূজাকে ঘিরে মণ্ডপগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রশাসন, পূজা উদযাপন পরিষদ, মণ্ডপ কমিটি ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রস্তুতি।
আমিয়ানে থাকছে ব্যতিক্রমী আয়োজন
এবার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের আমিয়ান বাথুয়াডাঙ্গা সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপে থাকছে বিশেষ ও আকর্ষণীয় আয়োজন। প্রচলিত মাটি, খড় ও বাঁশের পরিবর্তে ককশিট ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে দুর্গাপ্রতিমা। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে ভাসমান সেতু। থাকছে ডিজিটাল আলোকসজ্জা, বিশেষ লাইটিং শো ও সাউন্ড সিস্টেম।
আমিয়ান বাথুয়াডাঙ্গা সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপ কমিটির তথ্যমতে, প্রতিমা তৈরিতে প্রায় ৫ হাজার ককশিট ব্যবহার করা হয়েছে। প্রচলিত উপকরণের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় যুবকেরা।
দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে মণ্ডপ এলাকায় তৈরি করা হয়েছে ভাসমান সেতু। মণ্ডপজুড়ে বসানো হচ্ছে ডিজিটাল লাইটিং ও নানা ধরনের আলোকসজ্জা। অষ্টমী, নবমী ও দশমীর রাতে থাকবে বিশেষ লাইটিং শো। মণ্ডপ এলাকায় রয়েছে রাধাগোবিন্দ মন্দির ও শিবমন্দিরও।
আমিয়ান যুব সংঘের সহসভাপতি প্রতীপ ঘোষ বলেন, মানুষকে ভিন্নধর্মী কিছু উপহার দেওয়ার লক্ষ্যেই এবার বড় পরিসরে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। ককশিটের প্রতিমার পাশাপাশি ভাসমান সেতু, ডিজিটাল আলোকসজ্জা ও বিশেষ লাইটিং শোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
যুব সংঘের সহসাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার ঘোষ বলেন, প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে ককশিট দিয়ে প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য মণ্ডপ এলাকায় বিভিন্ন আকর্ষণ রাখা হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এখানে আসবেন বলে আশা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মালঞ্চ রানী ঘোষ বলেন, প্রতিমার কাজ শেষ হওয়ার আগেই অনেকে মণ্ডপ দেখতে আসছেন। ককশিটের প্রতিমা, ভাসমান সেতু ও আলোকসজ্জা এবারের আয়োজনকে অন্য মণ্ডপের তুলনায় আলাদা করেছে।
দর্শনার্থীদের চাপ বিবেচনায় মণ্ডপে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক যাতায়াতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভাসমান সেতুর ভেতর দিয়ে দর্শনার্থীদের প্রবেশের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও গ্রামবাসীর সহযোগিতায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আমিয়ান গৌরী মঠের পূজারি শ্যামল সরকার বলেন, এবার এখানে পঞ্চমবারের মতো দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ব্যতিক্রমী আয়োজনের কারণে এবার দূর-দূরান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছেন তারা।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের পূজার সার্বিক বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রতিমা তৈরির শিল্পীকে দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং আনুষঙ্গিক কাজে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। গ্রামবাসী, বিভিন্ন ব্যক্তি ও সরকারি অনুদানের মাধ্যমে পূজার ব্যয় নির্বাহ করা হচ্ছে বলে জানান আমিয়ান যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক দ্বীপজয় ঘোষ।
যুব সংঘের সহকোষাধ্যক্ষ রাকেশ ঘোষ বলেন, দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মণ্ডপের আকর্ষণ বাড়াতে লাইটিংয়ের পাশাপাশি সাউন্ড সিস্টেমেরও বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মিলন কুমার ঘোষ বলেন, আমিয়ান বাথুয়াডাঙ্গার আয়োজনটি উপজেলার অন্যতম বড় আয়োজন। ককশিটের প্রতিমা, ভাসমান সেতু ও দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা এবার বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতিও ভালো।
মন্তব্য করুন