
শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে আহত মোজাম মিস্ত্রি (৬২) খুলনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার গৌরিপুর গ্রামের মৃত তাহের মিস্ত্রির ছেলে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে গোপালপুর এলাকায় হামলার শিকার হন মোজাম। প্রথমে তাঁকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। রাতেই সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ভোররাতে চিকিৎসকেরা তাঁকে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করেন।
নিহতের ছেলে তোফাজ্জল হোসেনের অভিযোগ, শুক্রবার প্রতিপক্ষ ইস্রাফিল হোসেনের ছেলে বিল্লাল হোসেন বাবু ও তাঁর সহযোগী হাসান, সাগরসহ ১০-১২ জন অস্ত্রধারী তাঁর বাবাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। তাঁর দাবি, মৃত ভেবে হামলাকারীরা মোজামকে পাশের খালে ফেলে চলে যান। পথচারীরা গোঙানির শব্দ শুনে রাত ১০টার দিকে তাঁকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে দেন।
তোফাজ্জল আরও বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর তাঁর বাবা হামলায় জড়িতদের নাম-পরিচয় পুলিশকে জানিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, হামলার এক-দেড় ঘণ্টা আগে তাঁর বাবাকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ওই দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলা সৈনিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইস্রাফিল হোসেনকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে শ্যামনগর থানা পুলিশ।
তোফাজ্জল হোসেনের দাবি, ইস্রাফিলের ছেলেসহ পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ করেছেন জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে পুলিশকে ব্যবহার করে ওই গ্রেপ্তারের পেছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছেন আমার বাবা মোজাম মিস্ত্রি, যেটি সঠিক নয়।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেছেন, মোজামের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পরিবারের সদস্যরা হয়তো কোনো অভিযোগ করেননি। সন্ধ্যায় খুলনায় মোজামের মৃত্যুর খবর তিনি শুনেছেন, কিন্তু নিহতের পরিবারের কেউ এখনো পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তিনি জানান, ঘটনায় জড়িতদের আটক করতে পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে। পরিবারের সদস্যরা এলাকায় ফিরে মামলা করলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন