বাংলাদেশ, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
১৪ জুলাই ২০২৫, ১:১৮ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

কেশবপুরের হরিহর নদীতে কচুরিপানা অপসারণে তরুণ সমাজ

জি. এম. মিন্টু, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুর উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া হরিহর নদী যেন আজ প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে নদীতে জমে থাকা কচুরিপানা শুধু পানির প্রবাহই বন্ধ করছে না বরং শঙ্কা জাগাচ্ছে ভয়াবহ বন্যার। সেই শঙ্কার মুখে দাঁড়িয়েই স্থানীয় তরুণদের হাতে শুরু হয়েছে এক মধুর, প্রেরণামূলক উদ্যোগ স্বেচ্ছাশ্রমে নদী পরিষ্কারের অভিযান।
বন্যার ভীতি, নদীর জীর্ণদশা এবং বাস্তব সংকট :
বছরের পর বছর নদী খননের নামে চলে দুর্নীতির মহোৎসব। কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও বাস্তবে নদী তার স্বাভাবিক গতিপথ ফিরে পায়নি। বরং আজও কচুরিপানা আর পলিতে ভারাক্রান্ত হরিহর নদী।
এই নদী হয়ে পানি প্রবাহিত হয় মনিরামপুর থেকে আসা মধ্যকুল, হাবাসপোল, ভোগতী, বালিয়াডাঙ্গা, রামচন্দ্রপুর, ব্যাসডাঙ্গা, রাজনগর, বারাকপুরসহ অসংখ্য গ্রামের। ফলে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হলে মুহূর্তেই ডুবে যায় ফসলের মাঠ, জনবসতি আর পৌর শহরের চারণি বাজার এলাকা।
তরুণদের উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে কচুরিপানা অপসারণ :
এই সংকট মোকাবেলায় রোববার সকালে কেশবপুরে হরিহর নদীতে শুরু হয় স্বেচ্ছাশ্রমে কচুরিপানা পরিষ্কার কার্যক্রম। উদ্যোগে নেতৃত্ব দেন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মিরাজ বিশ্বাস, হৃদয় ব্লাড ব্যাংক’এর বাবু বিশ্বাস, ‘প্রয় কেশবপুর’গ্রুপের এনামুল হক, সঙ্গে ছিলেন আশরাফুল, নয়ন, আলীম, ইকরামুল, সারাফাত, মোহাম্মদ, সাদসহ আরও অনেকে। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সাংবাদিক ও বর্ণমালা একাত্তর-এর পরিচালক শফিকুল ইসলাম সুইট। সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম বলেন, রাজনীতি ও দুর্নীতির বাইরে থেকে সাধারণ মানুষ যখন নিজ হাতে নদী পরিষ্কার করতে নামে, তখন সেটা শুধু পরিচ্ছন্নতা নয়, এটা প্রতিরোধ আত্মরক্ষার এক নীরব বিপ্লব’।
প্রশাসনের প্রশংসা ও আশ্বাস :
এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ কেবল একটি স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম নয়, এটি হয়ে উঠছে একটি স্মরণীয় দিন যেখানে প্রশাসনের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ ও তরুণরা একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নদী রক্ষায় উদ্যোগী। কেশবপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রোকসানা খাতুন বলেন, স্বেচ্ছাসেবীরা যে দায়িত্ববোধ নিয়ে এই কাজটি করছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে। প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রস্তুত।
বিশেষজ্ঞের চোখে মূল্যায়ন :
নদী ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশবিদ প্রকৌশলী এনামুল কবির বলেন, একটি নদীর স্বাভাবিক জীবন চক্র ধ্বংস হলে, তার ফল ভোগ করে আশপাশের শত শত মানুষ। কচুরিপানা নদীর প্রবাহে বাধা হয়ে দাঁড়ালে বর্ষার পানির চাপ সহ্য করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। সরকারিভাবে নিয়মিত খনন ও পরিচর্যার অভাবে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। স্বেচ্ছাসেবীদের এই উদাহরণ আমাদের শিখিয়ে দেয় সচেতন নাগরিকরাই পারে প্রকৃত পরিবর্তন আনতে।
Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রাইভেট হসপিটাল ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের বিভাগীয় কমিটি ঘোষণা

১

সাতক্ষীরায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

২

পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি, ২৪ ঘণ্টায় আটক ৩

৩

তালায় জেলা পরিষদের বাইসাইকেল উপহার পেল ৮০ মেধাবী শিক্ষার্থী

৪

শ্যামনগরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

৫

শ্যামনগরে স্থানীয় অভিযোজন কৌশলবিষয়ক প্রশিক্ষণ

৬

খেজুরবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, আতংকে থাকে শিক্ষার্থীরা

৭

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু

৮

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪

৯

এবার গ্যাসের দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব অপারেটরদের

১০

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতে ৫ জনের মৃত্যু

১১

সুন্দরবনকে বনদস্যু মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন

১২

ভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব

১৩

ঘূর্ণিঝ‌ড়ের সতর্কবার্তার ম‌ধ্যে আশাশুনিতে খোল‌পেটুয়া নদীর বাঁ‌ধে ভয়াবহ ভাঙন, এলাকায় আতংক

১৪

ডিবি গার্লস হাইস্কুলে লালন সাঁইজির তিরোধান দিবস পালিত

১৫

‎সবুজের সান্নিধ্যে মন ও প্রাণের নিরাময় || ‎তারিক ইসলাম

১৬

এবি পার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শাখার আহবায়ক কমিটির অনুমোদন

১৭

কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের নিন্দা

১৮

আশাশুনিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ প্রস্তুতি মেলা

১৯

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যপুস্তকে ‘খেলাধুলা’ বই বাধ্যতামূলক হচ্ছে

২০