বাংলাদেশ, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৮:০২ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

সপ্তম বর্ষে দ্য এডিটরস; লেখাটি আপনার ভালো লাগবে না | আব্দুল ওয়াজেদ কচি

ùS

২০১৯ সালের জুনের শেষ সপ্তাহে এক ঘরোয়া বৈঠকে দ্য এডিটরস প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর করা হয় কর্মপরিকল্পনা। পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতে থাকে প্রস্তুতি। এরই মধ্যে দ্য এডিটরস টিমে যোগ দেয় একদল তরুণ সংবাদ কর্মী। একটু গুছিয়ে নিয়ে নির্ধারণ করা হয় উদ্বোধনের তারিখ। ২ সেপ্টেম্বর ২০১৯। হ্যাঁ, সেই দিনটিই আজ। দ্য এডিটরস তার স্বল্প শক্তি সামর্থ নিয়ে ৬ষ্ঠ বর্ষ পেরিয়ে সপ্তম বর্ষে পদার্পণ করছে।

পথচলার এই অর্ধযুগে ঠিক সাংবাদিকতা বলতে যা বোঝায়, তা আমরা কতটুকু করতে পেরেছি- তা মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণের দায়িত্ব দ্য এডিটরস এর পাঠক-দর্শক-শ্রোতা-সমালোচকদের।

আমরা তুলে ধরতে চাই আমাদের সীমাবদ্ধতা, আমাদের অভিজ্ঞতার কথা।

চলার পথে আমরা কতটুকু নিরপেক্ষ, সে প্রশ্নও করতে চাই নিজেদের কাছে।

২০১৯। তখন ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। দেশের রাজনৈতিক অবস্থা ও প্রশাসনিক গতিবিধির কথা নিঃসন্দেহে সবার জানা। এন্টি গভর্মেন্ট কোন দলের নেতাকে তখন কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হতো না। আমন্ত্রণ তো দূরে থাক, তাদের ধারে কাছেও ঘেষতো না।

২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর বিকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের শহীদ স. ম আলাউদ্দীন মিলনায়তনে দ্য এডিটরস এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। আসতে শুরু করলেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছেছেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। বাকী রয়েছেন একজন, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির তৎকালীন আহবায়ক অ্যাড. সৈয়দ ইফতেখার আলী। তখনও প্রেসক্লাবের গেটে তাকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় আমরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি পৌঁছালেন। তাকে স্বাগত জানিয়ে নেওয়া হলো স. ম আলাউদ্দীন মিলনায়তনে। দ্য এডিটরস এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘বিএনপি নেতা’ দেখে কানাঘুষা শুরু করলেন অনেকেই। তাতে বিচলিত না হয়ে আমরা শুরু করলাম অনুষ্ঠান।

একে একে বক্তব্য রাখলেন ইন্ডিপেন্ডেট টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি আবুল কাসেম, ফিফা রেফারি তৈয়ব হাসান বাবু, কবি পলটু বাসার, কণ্ঠশিল্পী মঞ্জুরুল হক, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামান, সাবেক সাধারণ আব্দুল বারী, তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী, সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, দক্ষিণ দক্ষিণের মশাল সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ (অব.) সুভাষ সরকার, শিক্ষাবিদ প্রফেসর আব্দুল হামিদ, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির তৎকালীন আহবায়ক প্রয়াত আনিসুর রহিম, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রয়াত সুভাষ চৌধুরী ও তৎকালীন সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ।

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির তৎকালীন আহবায়ককে কখন বক্তব্য দিতে দেওয়া হবে, তা নিয়েও যেন কানাঘুষা চলছিল।

কিন্তু সব পরিস্থিতি মোকাবেলা করেও আমরা বিএনপির তৎকালীন আহবায়ককে শুধু আমন্ত্রণই জানায়নি, অনুষ্ঠানে তাকে যথা উপযুক্ত সম্মান দেওয়া হয়েছে। এটা নিয়ে বেশ কিছুদিন অনেকের অনেক কথা শুনতে হয়েছে। কিন্তু আমাদের বরাবরই উত্তর ছিল- এটা কোনো দলের প্রতিষ্ঠান নয়, এটা একটা গণমাধ্যম। এখানে সবার আসার অধিকার আছে, এখানে সবাই কথা বলতে পারবে, দ্য এডিটরস দল মত নির্বিশেষে গণমানুষের কথা তুলে ধরবে।

এর অল্প কিছুদিন পরের কথা। শ্যামনগরের সুন্দরবন প্রেসক্লাবে দ্য এডিটরস এর এক আঞ্চলিক প্রতিনিধি সম্মেলন হলো। সম্মেলনের নিউজ ছবিসহ প্রকাশ হলেই স্থানীয় যুবলীগ নেতারা সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে প্রচার দিল দ্য এডিটরস প্রতিনিধি সম্মেলনের আড়ালে স্থানীয় রাজাকার পরিবারের সন্তান এবং বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের সংগঠিত করছে। এ বিষয়ে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করলো দ্য এডিটর কর্তৃপক্ষ।

এবার বলি কিছুদিন আগের কথা। একটি সংবাদ প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে সাবেক এক ছাত্রদল নেতা আমাদের কিছু ঘনিষ্ঠ সহকর্মীর সহায়তায় বেশ বড় একটি প্রোফাইল তৈরি করলেন ‘দ্য এডিটরস আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠান’।

আমরা ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করি, আর ভাবি যে, আমরা সঠিক পথে আছি। ভিতরে আরও অনেক কাহিনী আছে। আওয়ামী আমলে এখনকার অনেক বড়দলের নেতা দ্য এডিটরস এর অফিসে এসে সংবাদ প্রচারের জন্য বসে থাকতো। আমরা ছাড়া তাদের নিউজ কেউ ভালোভাবে প্রচার করতো না, তারাও এখন ট্যাগ দেয়। এসব ভাবতে ভালোই লাগে যে ‘আমাদের স্বভাব পরিবর্তন হবে না’। একটি সংবাদ প্রকাশ হলে- এখন আর নেতারা ভাবেন না যে, আমার ভুলগুলো শুধরাতে হবে। তারা তৈরি করেন পলিটিক্যাল ট্যাগিং প্রোফাইল। পিছনে লাগিয়ে দেন গোয়েন্দা। তারাও পত্রিকা বের করতে চান, তাদের মুখপাত্র হিসেবে, আকামের ঢাল হিসেবে। তারা চান না গণমাধ্যম স্বাধীন থাকুক। সব নেতার মধ্যেই যেন স্বৈরাচার ঘুমিয়ে আছে।

বেশ কিছু গল্প ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরলাম। আমাদের বন্ধু না ভাবলেও চলবে। ১৬ বছর আওয়ামী সরকারের সাথে যুদ্ধ করে টিকা থাকা প্রথম আলো অফিসের সামনে যদি জিয়াফত হয়, তাহলে এসব ঘটনা সামান্য ব্যাপার।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভক্ষণে দ্য এডিটরস এর প্রতিষ্ঠাকালীন সহযোদ্ধাদের সহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা, দ্য এডিটরস এগিয়ে যাবে সমহিমায়।

লেখক: বীর মুক্তিযোদ্ধা। সম্পাদক, দ্য এডিটরস। স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক ইনকিলাব

 

 

 

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বোয়িং কেনার সিদ্ধান্তে তারেক রহমানকে ডোনাল্ড ট্রা‌ম্পের সাধুবাদ

তালার খবর’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

কাদাকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ডাবলু আর নেই

শার্শায় দুই সন্তানকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যা!

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাসাস’র র‌্যালি

সুন্দরবন সংলগ্ন লোকালয় থেকে ১০ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার

সিএসও নেটওয়ার্ক সদস্যদের সমন্বয় সভা

কালিগঞ্জে বিএনপি নেতার বাড়ি থেকে পেট্রোল বোমাসাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার

সাতক্ষীরায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

পারুলিয়ায় ব্যাংকের সাইনবোর্ড টানিয়ে গোরস্থান ও মাদ্রাসার জায়গা দখলের চেষ্টা

১০

নভেম্বরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের আভাস

১১

এনআইডি পেয়েছেন ১৪ দেশের ৫৪ হাজারের বেশি প্রবাসী

১২

মেসির অবসরের ঘোষণায় যা বললেন আবেগাপ্লুত কারিনা

১৩

বিপিএলের ক্ষতি পূরণ করা অসম্ভব: মিঠুন

১৪

বেসরকারি শিক্ষকদেরও পে-স্কেল দেওয়া হবে

১৫

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ভিসা নিয়ে সুখবর দিল যুক্তরাষ্ট্র

১৬

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু

১৭

ইমরান খান-বুশরা বিবির পক্ষে দাঁড়াল আদালত

১৮

তালায় বিসিআইসি ও বিএডিসির সার ডিলারদের সঙ্গে প্রশাসনের মতবিনিময়

১৯

আশাশুনিতে সুশীল সমাজ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের মধ্যে সংলাপ

২০
error: Content is protected !!