
শেখ তানজির আহমেদ: রাজধানী ঢাকার ধামরাইয়ের একটি ভাটায় বানানো ইট বহন ও সাজাতে ব্যস্ত আবু রায়হান নামে একটি শিশু। যে বয়সে তার সহপাঠীদের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার কথা, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে আনন্দ আর উল্লাসে হেসে খেলে বেড়ানোর কথা, ঠিক তখনই তাকে পরিবার পরিজন ছেড়ে বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে তিনশ’ কিলোমিটার দূরে জীবিকার তাগিদে কাজ করতে হচ্ছে ইটভাটায়। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে ধামরাইয়ের এ ইটভাটায় যোগ দিয়েছে সে, থাকবে আগামী মার্চ পর্যন্ত।
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার নয়াখালী গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও নূরনাহার দম্পতির সন্তান রায়হান স্থানীয় একটি মাদরাসায় নবম শ্রেণিতে পড়তো। পড়ালেখা বাদ দিয়েই ইটভাটায় কাজ নিয়েছে সে।
গত সোমবার (১০ নভেম্বর) দেখা হয় তার সঙ্গে।
কিন্তু মাদারাসা, বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন ছেড়ে কেন তাকে ইটভাটায় কাজ নিতে হলো? প্রশ্নের জবাব মুখে না দিলেও রায়হানের ছল ছল চোখ বলে দেয় অনেক কিছুই।
নিজেকে সামলে নিয়ে কিছুক্ষণ পর রায়হান বলে, ঈদের দিন (৩১ মার্চ, ২০২৫) হঠাৎ করেই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় আমাদের গ্রামসহ আশপাশের আরও চার-পাঁচটি গ্রাম। এতে ঘরবাড়ি, মাছের ঘের সব শেষ হয়ে যায়। আমরা একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়ি। থাকার জায়গা ছিল না, ঘুমানোর জায়গা ছিল না। ঘরবাড়ি ঠিক করার মতো সামর্থ্যও ছিল না। অভাব কাটে না। তাই ভাটায় আইছি। জলবায়ু পরিবর্তন, শৈশব হারাচ্ছে উপকূলের শিশুরা
শুধু আবু রায়হানই নয়, একই ইটভাটায় কাজ নিতে বাধ্য হয়েছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নুরনগর এলাকার মো. রাকিবুল হাসান (১৫), আইটপাড়া গ্রামের আল মামুন (১৫), আশাশুনি উপজেলার দক্ষিণ একসোরা গ্রামের মারুফ বিল্লাহ (১২) ও খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের তামিম ইকবাল (১৫)। তাদের সবারই জীবনের গল্পগুলো প্রায় একই রকম।
নেপথ্যে জলবায়ু পরিবর্তন
রায়হান, রাকিবুল, আল মামুন, মারুফ বিল্লাহ ও তামিম ইকবালের বাড়ি দেশের তিনটি উপকূলীয় উপজেলায়। এদের মধ্যে কেউ কেউ কয়েক বছর ধরেই বর্ষা মৌসুমের পরে ভাটার কাজে যোগ দেয়। সবচেয়ে ছোট ১২ বছরের মারুফ বিল্লাহও এবার দ্বিতীয় বারের মতো ভাটায় কাজে এসেছে। খুব অল্প বয়সেই কেন তারা কাজের সন্ধানে বাড়ি ছাড়ছে তা জানতে তাদের ঠিকানা ধরে অনুসন্ধান করা হয়। নেপথ্যে বেরিয়ে এসেছে জলবায়ু পরিবর্তনের চরম কষাঘাতের চিত্র।
অনুসন্ধান বলছে, স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রকাশিত সর্বশেষ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণতা সূচক (সিভিআই) অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের অতি উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা খুলনার (সিভিআই ০ দশমিক ৫২), কয়রা (সিভিআই ০ দশমিক ৫৭) এবং উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা সাতক্ষীরা (সিভিআই ০ দশমিক ৫১) জেলার অতি উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা শ্যামনগর (সিভিআই ০ দশমিক ৫৮) ও আশাশুনি (সিভিআই ০ দশমিক ৫৫) উপজেলায় ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদী ভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, সুপেয় পানি ও কর্মসংস্থান সংকটের কারণে ক্রমেই নিঃস্ব হয়ে পড়ছে মানুষ। যার ফলে শৈশব হারাচ্ছে উপকূলের শিশুরা। সুযোগ পাচ্ছে না স্বাভাবিক বিকাশেরও। বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ছে অকালেই। জীবনধারণের তাগিদে আট-নয় বছর বয়স থেকেই তারা কাজের জন্য ছুটছে ইটভাটায় বা যুক্ত হচ্ছে অন্য কোনো পেশায়।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, প্রতিবছর অক্টোবর এলেই উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলা, খুলনার কয়রা ও দাকোপ উপজেলাসহ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চল থেকে হাজারো শিশু স্কুল-পরিবার পরিজন ছেড়ে কাজের খোঁজে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যায়। যাদের বেশির ভাগই ফিরে এসে আর স্কুলে যোগ দেয় না।
ঝরে পড়ছে উপকূলের শিশুরা, হারাচ্ছে শৈশব
শিশু শিক্ষায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অনুসন্ধানে উপকূলীয় কয়েকটি উপজেলার মধ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের (পুরাতন) মধ্যে ১০টি ইউনিয়নের ৩৩টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (মাদরাসা ও কারিগরি ব্যতীত) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিদ্যালয়গুলোতে ২০২০ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে দুই হাজার ৭০৭ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল। এ ব্যাচের এক হাজার ৯৪২ জন শিক্ষার্থী ২০২৪ সালে দশম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। অর্থাৎ ২০২০ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭৬৫ জন আর শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত নেই। যাদের বেশির ভাগই কোনো না কোনোভাবে শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়েছে। পাচ্ছে না পরিবারের আদর মায়া মততা। বঞ্চিত হচ্ছে দক্ষ হয়ে গড়ে ওঠার, কিংবা ন্যূনতম খেলাধুলা বা বিনোদনের সুযোগ থেকেও। এটি শুধু একটি উপজেলার একটি ব্যাচের চিত্র।
গল্পচ্ছলে ধামরাইয়ে ইটভাটায় কর্মরত আল মামুন বলে, সারাদিন কাজ করার পর ক্লান্ত শরীর নিয়ে সন্ধ্যায় যখন বিশ্রাম নেই, তখন বাড়ির কথা মনে পড়ে। কেউ খারাপ ব্যবহার করলে মার কথা মনে পড়ে, বাড়ির জন্য পরাণ পোড়ে। আগে বাড়িতে থাকতে খেলাধূলা করতাম, এখানে এসে সে সুযোগ আর নেই। আবার কাজ শেষে ছয় মাস পরে যখন বাড়ি ফিরি তখন বন্ধুরাও আর মিশতে চায় না। কোনো না কোনো কাজ করতে হয়। আর স্কুলে যাওয়া তো বন্ধ হয়ে গেছে কয়েক বছর আগেই।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আল মামুনের মতো হাজারো শিশুর শৈশব, শিক্ষা আর স্বপ্ন ভেসে যাচ্ছে ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, নদী ভাঙন, লবণাক্ততা কিংবা দারিদ্র্য বা জীবনের কঠিন বাস্তবতায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভাটার সর্দার জানান, ইটভাটায় এমন কিছু কিছু কাজ আছে, যেগুলো শিশুদের দিয়ে করালে খরচ কম হয়, তাই প্রতি ব্যাচ শ্রমিকদের সঙ্গে শিশুদেরও নেন তারা।
যদিও বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী, ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের কোনো ধরনের শ্রমে নিযুক্ত করা নিষিদ্ধ।
রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি
মাত্র ৫৩ হাজার টাকায় চুক্তিতে ছয় মাসের জন্য ইটভাটায় কাজ করছে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার দক্ষিণ একসোরা গ্রামের মারুফ বিল্লাহ (১২)। চলতি মৌসুমের আগেও তিন বছর ভাটায় কাজ করেছে সে। অল্প টাকায় কাজ করানো যায় বলে ইটভাটায় শিশু শ্রমিকদের রয়েছে বিশেষ চাহিদা। শিশুদের দিয়ে ভাটায় সাধারণত মাটির বাহন চালানো, কয়লা বহন এবং ইট বানানো ও পোড়ানোর মূল শ্রমিকদের সহযোগিতা করা, শুকানো ও ভ্যানে করে আনা-নেওয়ার কাজ করানো হয়। ঝুঁকি থাকলেও পরিবারের অর্থাভাবে এসব কাজ করতে বাধ্য হয় তারা। দীর্ঘ ছয় মাস ভাটায় কাজ করে অনেকেই আক্রান্ত হয় নানা রোগে।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. তরিকুল ইসলাম বলেন, ইটভাটায় কর্মরত শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে। দীর্ঘ সময় সেখানে কাজ করার ফলে কোমরে ও ঘাড়ে ব্যথা হয়। বিষাক্ত ধোঁয়া ও ধুলাবালুতে শিশুদের ত্বক ও নখ নষ্ট হয়। রক্তস্বল্পতা, অ্যাজমা, হাঁপানি ও ব্রঙ্কাইটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।জলবায়ু পরিবর্তন, শৈশব হারাচ্ছে উপকূলের শিশুরা
যা বলছে উপকূলীয় এলাকার জনপ্রতিনিধিরা
কর্মসংস্থান সংকটের কারণে প্রতিবছরই উপকূলীয় এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ ছয় থেকে সাত মাসের জন্য কাজের সন্ধানে এলাকা ছাড়েন। এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও সাতক্ষীরার শ্যামনগরের জনপ্রতিনিধিদের মতে, এ সময়ে (অক্টোবর-নভেম্বর) শুধু শ্যামনগর উপজেলা থেকেই লক্ষাধিক মানুষ দেশের বিভিন্ন ইটভাটায় কাজ করতে যান। এর মধ্যে দুই-তিন হাজারের মতো নারী শ্রমিক এবং অন্তত ১০ হাজার শিশু শ্রমিক রয়েছেন।
শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের আইটপাড়া গ্রামের আজগার সানা জানান, অভাবের কারণে ১১ বছরের ছেলেকে ইটভাটায় পাঠিয়েছেন তিনি। এজন্য ভাটার সর্দারের কাছ থেকে আগাম টাকাও নিয়েছেন।
শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, গাবুরা থেকে প্রায় ১০ হাজার মানুষ ইটভাটায় কাজ করতে গেছে। এর মধ্যে ৮০০ এর মতো শিশু ও ১০০ এর মতো নারী রয়েছেন। এসব শিশুর জন্য পরিবারগুলো ভাটার শ্রমিক সর্দারদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে আগাম টাকা (দাদন) নিয়েছে। ভাটার সিজন এলে শিশুদের শ্রমিক সর্দারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এটা এখানকার মানুষের কাছে প্রচলিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।
ঠিক একই ধরনের কথা বলেন, শ্যামনগরের কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম ও বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামও।
তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তাই শৈশবেই ঝরে পড়ছে শিশুরা। শ্রমিক সর্দারের দায়িত্বেই ইটভাটায় চলে যায় বেশির ভাগ শিশু। আবার অনেক সময় স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে ভাটায় যায়, তখন তারা তাদের বাচ্চাকে কোথায় রাখবে? তাই তাকেও সঙ্গে করে নিয়ে যায়। এতে তাদের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। উত্তম কোনো বিকল্প বের করতে না পারলে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা প্রায় অসম্ভব।
উপকূলীয় শিশুদের জীবন বদলে দিতে পারে কারিগরি শিক্ষা
কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জে একটি স্কুল ও কলেজ স্থাপন করেছে সরকার। নাম শ্যামনগর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ইলেক্ট্রিক্যাল, ওয়েল্ডিং, সিভিল ও আইওটি (তথ্য প্রযুক্তি) ট্রেডভিত্তিক কারিগরি শিক্ষা দেওয়া হয়। যেখানে শিক্ষার্থীরা সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষ হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে দেওয়া হয় বৃত্তিও। শতভাগ ছাত্রী এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ৮০ ভাগ ছাত্র এ বৃত্তি পেয়ে থাকে। এর মধ্যে বছরে দুইবার ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ১৪০০, ৭ম ও ৮ম শ্রেশির শিক্ষার্থীরা ১৮০০, ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা দুই হাজার এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা ৪৫০০ টাকা করে বৃত্তি পান।
শ্যামনগর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী আবুল খায়ের মো. বাহাউদ্দীন বলেন, দেশের প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপন করা একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। কারণ দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়ে কেউ বেকার থাকে না। সাধারণ শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি দক্ষও হয়ে ওঠে। বিদেশের শ্রম বাজারেও এসব শিক্ষার্থীর চাহিদা বেশি।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলায় সাতক্ষীরা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রতিবছর ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে তিন শিফটে ১২০ জন করে শিক্ষার্থী, ৯ম শ্রেণিতে দুই শিফটে ২০০ জন করে শিক্ষার্থী এবং একাদশ শ্রেণিতে ২০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পান। একই সুযোগ রয়েছে কালিগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও শ্যামনগর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে। কিন্তু হতাশার বিষয় সাতক্ষীরা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ব্যতীত অন্য দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থী পাওয়া যায় না। কারিগরি শিক্ষা গ্রহণের বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে এসব এলাকায়।
যদিও, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান সুযোগ সুবিধা যথেষ্ট নয় বলে দাবি তরুণ জলবায়ু কর্মী ইয়ুথ নেট গ্লোবালের অতিরিক্ত সমন্বয়কারী এসএম শাহিন আলমের। সাতক্ষীরার শ্যামনগরের দ্বীপ ইউনিয়ন পদ্মপুকুর থেকে বেড়ে ওঠা শাহিন নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, শ্যামনগর উপকূলে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, লবণাক্ততায় কৃষি জমি কমে যাওয়া, সুপেয় পানির সংকট সর্বোপরি কর্মসংস্থান না থাকায় মানুষ চরম দারিদ্র্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। যে মানুষের পেটে ভাত নেই, সে শিক্ষা গ্রহণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির চিন্তা করবে কীভাবে? এটা স্বাভাবিক এলাকাগুলোর জন্য ঠিক আছে, কিন্তু জলবায়ু ঝূঁকিপূর্ণ এলাকার জন্য তাদের এ সামান্য বৃত্তি যা মাসে ২৩৩ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭৫০ টাকা পর্যন্ত, তা কোনো কাজে আসবে না। কারণ এখানে শিশুদের নিজেদেরই পরিবারের ভরণপোষণে ভূমিকা রাখতে হয়, রাতে ঠিক মতো ঘুমানোর জায়গাও থাকে না।
তবে শাহিনের কথার সূত্র ধরে উপকূলীয় জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বর্তমান প্রচলিত বৃত্তিমূলক কারিগরি শিক্ষা কৌশলে কিছুটা পরিবর্তনের দাবি জানালেন দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে উপকূলীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা পরিবেশ কর্মী অধ্যক্ষ (অব.) আশেক-ই-এলাহী।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন উপকূলীয় জনজীবন নানামাত্রিক সংকটে বিপর্যস্ত করে তুলছে। যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে শিশুদের ওপর। তাই উপকূলীয় শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
এ উদ্যোগের আওতায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আবাসন নিশ্চিতের পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির পর শিক্ষাকে পেশাভিত্তিক করতে হবে। যেখানে ব্যবহারিক কাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থী নিজেই আয় করতে পারবে। যেটা তার মনে এমন চিন্তাধারা তৈরি করবে যে বাইরে ভাটায় কাজের যাওয়ার চেয়ে এখানে পড়লেই উপার্জন করা যায়। একই সঙ্গে উপকূলের চাহিদা মেটানোর জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতাও বৃদ্ধি করতে হবে।

মন্তব্য করুন