
বেনাপোল প্রতিনিধি : ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা। তবে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নির্ধারিত এ লক্ষ্যমাত্রা গত অর্থবছরের তুলনায় ৭০২ কোটি টাকা কম।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। কিন্তু রাজস্ব আদায় হয় মাত্র ৬ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। একই সময়ে বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত পণ্যের পরিমাণও কমে যায় প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার মেট্রিক টন।
এদিকে নতুন অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আশাবাদী। তবে ব্যবসায়ীদের মতে, বৈধ আমদানি বাণিজ্যে আরও সুবিধা নিশ্চিত করা, পণ্য পাচার ও রাজস্ব ফাঁকি কার্যকরভাবে রোধ এবং বাণিজ্যের ওপর বিদ্যমান বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে।
এদিকে কাস্টমস সূত্রে আরো জানা গেছে, গত ছয় মাসে বেনাপোল কাস্টমসে ১৩০টি জালিয়াতির ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া গত মাসে প্রায় ২০ কোটি টাকার পণ্য পাচারের অভিযোগে দায়ের হওয়া চারটি মামলায় কাস্টমস, বন্দর, নিরাপত্তা সংস্থা ও ব্যবসায়ীসহ ৫৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানান, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আমদানি কার্যক্রম বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং পাচার ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, রাজস্ব আহরণ বাড়াতে কাস্টমস কর্মকর্তারা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অনিয়মের সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন