
আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভবন নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আপাতত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্র মতে, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভবন নির্মাণ কাজ শুরুর পর থেকে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে। কাজ শুরুর পর থেকে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা প্রকৌশলী, এমনকি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নজরে না এনে এবং কোন প্রকার দেখভাল ছাড়াই কাজ চলতে থাকে।
বৃহস্পতিবার ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। কিন্তু এ বিষয়ে ইউএনও, ইঞ্জিনিয়ার বা শিক্ষা অফিসকে অবহিত করা হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি ইউএনও শ্যামানন্দ কুন্ডুকে জানানো হয়। এসময় তিনি পূর্ব নির্ধারিত জরুরী কাজে বাইরে যাওয়ায় উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার ও শিক্ষা অফিসারকে নিয়ে ত্রুটিমুক্ত কাজ করার পরামর্শ দেন।
একই সাথে একাডেমিক সুপারভাইজারকে মোবাইলে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। একাডেমিক সুপারভাইজার হাসানুজ্জামান ইঞ্জিনিয়ার অফিসের সাথে কথা বলে কাজে ব্যবহৃত পাথর নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি সুরহা না করে কাজ করতে নিষেধ করেন।
এরপরও কাজের দায়িত্বে থাকা HOBAT এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ার শরিফুল ইসলাম ও সাইড ইঞ্জিনিয়ার শরীফ পারভেজ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতামত তোয়াক্কা না করে কাজ শুরু করেন।
দুপুরের পর ইউএনও শ্যামানন্দ কুন্ডু কর্মস্থলে ফিরে কাজে অনিয়মের কথা জানতে পেরে তাদেরকে অফিসে তলব করেন। একই সময় উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অনিন্দ্যদেব, একাডেমিক সুপারভাইজার হাসানুজ্জামান, উপ সহকারী প্রকৌশলীবৃন্দ এবং প্রেস ক্লাবের সভাপতি এসকে হাসান, সাধারণ সম্পাদক আকাশ হোসেন ও অন্য সাংবাদিকদের তাঁর কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান।
উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্যদেব কাজে ব্যবহৃত পাথর নিয়ে তার মতামত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইতোপূর্বে একটি পাইল রিজেক্ট করা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে সেই রিজেক্ট পাইল ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া রডের ব্যবহারসহ অনেক ক্ষেত্রে অনিয়ম হতে পারে বলে উপস্থিত প্রকৌশলীবৃন্দ জানান।
একাডেমিক সুপারভাইজার হাসানুজ্জামান বলেন, আমরা সকালে কাজ না করতে বলে গেছি, কিন্তু তারপরও আমাদের অজান্তে কাজ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, ব্যবহৃত পাথরের স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো টেস্টে পাঠানো হচ্ছে। রিপোর্ট আসলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সে পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে।
মন্তব্য করুন