
ডেস্ক রিপোর্ট: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের আত্মবিশ্বাস সঙ্গে নিয়ে এবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে সাদা পোশাকে লড়াইয়ে নামছে বাংলাদেশ। আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার মুখোমুখি হবে দুই দল।
বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় শুরু হবে একমাত্র টেস্ট। ম্যাচটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়।
তবু বাংলাদেশের জন্য এর গুরুত্ব কম নয়। অস্ট্রেলিয়া সফরের পর দেশের বাইরে আরেকটি ভিন্ন কন্ডিশনে নিজেদের পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের জন্যও এটি নিজেদের টেস্ট সামর্থ্য দেখানোর বড় মঞ্চ।
বাংলাদেশের এবারের টেস্ট দলটিতে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের বেশ ভালো মিশেল রয়েছে।
নেতৃত্বে আছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এই দলে সবচেয়ে আলোচিত নাম তাওহীদ হৃদয়। টেস্ট দলে ফেরার আগে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’র বিপক্ষে ৩৫০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন তিনি। বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটিই কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। ফলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সুযোগ পেলে হৃদয়ের ব্যাটের দিকে আলাদা নজর থাকবে।
অভিজ্ঞতার জায়গায় বাংলাদেশের বড় ভরসা মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক ও লিটন দাস। অধিনায়ক শান্ত নিজেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে দারুণ একটি স্মৃতি নিয়ে মাঠে নামবেন। ২০২৩ সালে মিরপুরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে শান্ত দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ পেয়েছিল ৫৪৬ রানের বিশাল জয়।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাস খুব ছোট হলেও বেশ নাটকীয়। দুই দল এখন পর্যন্ত দুটি টেস্ট খেলেছে এবং দুটিতেই জয় এসেছে একেক দলের ঘরে। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের প্রথম দিকের বড় সাফল্যগুলোর একটি পেয়েছিল আফগানিস্তান। রশিদ খানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বাংলাদেশকে ২২৪ রানে হারায় তারা। চার বছর পর ২০২৩ সালে মিরপুরে সেই হারের জবাব দেয় বাংলাদেশ, তাও রীতিমতো রেকর্ড গড়ে। ৫৪৬ রানের জয়টি টেস্ট ইতিহাসে রানের ব্যবধানে তৃতীয় বৃহত্তম জয় এবং এ শতাব্দীতে সবচেয়ে বড় জয়গুলোর একটি।
তাই শুক্রবারের ম্যাচের পর দুই দলের টেস্ট লড়াইয়ে যে দল জিতবে, তারাই প্রথমবারের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এগিয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত হিসাব ১-১। আবুধাবির ম্যাচ সেই হিসাব বদলে দিতে পারে।
আফগানিস্তানও অবশ্য এবার বেশ প্রস্তুতি নিয়েই এসেছে। টেস্ট দলের নেতৃত্বে আছেন রহমত শাহ। তার সঙ্গে ব্যাটিংয়ে রয়েছেন হাশমতউল্লাহ শহীদি, সেদিকউল্লাহ আতাল, আবদুল মালিক, শাহিদউল্লাহ কামাল ও রহমানউল্লাহ। উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্বে থাকবেন ইকরাম আলিখিল ও আফসার জাজাই। বোলিং আক্রমণে কায়েস আহমেদ, ইয়ামিন আহমদজাই, জিয়া-উর রহমানসহ বেশ কয়েকজন রয়েছেন।
তবে আফগানিস্তানের দলে নেই তাদের সবচেয়ে বড় তারকা রশিদ খান। দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেট থেকে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। ফলে আগেরবার বাংলাদেশের বিপক্ষে আফগানদের যে স্পিন-নির্ভর শক্তি দেখা গিয়েছিল, এবার তার চেহারা কিছুটা আলাদা। অন্যদিকে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দারুণ পারফর্ম করে দলে ফিরেছেন ইয়ামিন আহমদজাই ও শাহিদউল্লাহ কামাল।
বাংলাদেশের জন্য বড় প্রশ্ন হবে আবুধাবির গরম ও কন্ডিশনের সঙ্গে কতটা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে দল। দলের একাংশ আগে থেকেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে অনুশীলন করেছে এবং ইউএইর বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে। অন্যদিকে এশিয়ান গেমসে থাকা লিটন, শান্ত, হৃদয়, শরিফুল, হাসান মাহমুদ ও তানজিদ পরে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। ফলে প্রস্তুতির সময়ের ক্ষেত্রেও দুই অংশের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য ছিল।
এই ম্যাচে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের দিকেও থাকবে বড় নজর। অস্ট্রেলিয়া সফরে হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলামরা নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়েছেন। লাল বলের ক্রিকেটে মিরাজ ও তাইজুলের স্পিন জুটি আবারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আবুধাবির উইকেটে ম্যাচ যত এগোবে, স্পিনারদের ভূমিকা তত বাড়ার সম্ভাবনাও থাকবে।
ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে প্রথম ইনিংসে বড় রান করা। টেস্ট ক্রিকেটে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে হলে শুরুটা ভালো করতে হবে শাদমান-তানজিদদের। এরপর শান্ত, মুমিনুল, মুশফিক ও লিটনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ড শক্ত অবস্থানে যেতে পারে। হৃদয় সুযোগ পেলে নিজের দুর্দান্ত প্রথম শ্রেণির ফর্মকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টেনে আনার চেষ্টা করবেন।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে তাদের ধৈর্যশীল ব্যাটিং ও স্পিন। রহমত শাহ ও হাশমতউল্লাহ শহীদিকে দীর্ঘ সময় উইকেটে রেখে বাংলাদেশকে চাপে ফেলার চেষ্টা করবে তারা। টেস্ট ক্রিকেটে আফগানিস্তান এখনো বাংলাদেশের মতো দীর্ঘ অভিজ্ঞ দল নয়, কিন্তু গত কয়েক বছরে তারা এই সংস্করণে নিজেদের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছে।
সব মিলিয়ে পরিসংখ্যান বাংলাদেশের পক্ষে থাকলেও ম্যাচের আগে পরিষ্কার কোনো নিশ্চয়তা নেই। দুই দলের টেস্ট লড়াইয়ের ইতিহাস ১-১ সমতায়, আগের দুই ম্যাচের গল্পও একেবারে বিপরীত। একবার আফগানিস্তানের দাপট, পরেরবার বাংলাদেশের রেকর্ড জয়। এবার আবুধাবিতে নতুন গল্প লেখার অপেক্ষা।
মন্তব্য করুন