
মেহেদী হাসান শিমুল: দীর্ঘ ২৫ বছর পর সাতক্ষীরার ধুলিহরে বেতনা নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা।
শরতের সোনাঝরা রোদ আর নীল আকাশের নিচে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বেতনা নদী ঘিরে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ।
বৈঠার ছন্দ, নৌকার গতির সঙ্গে নদীর দুই পাড়ে হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
ধুলিহর ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রতিযোগিতার সূচনা হয় হাজীখালী গেট এলাকা থেকে। প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটে ধুলিহর সুপারিঘাটা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায়।
আশাশুনির দাঁদপুর, বামনডাঙা, তেঁতুলডাঙা ও টেংরাখালির একটি করে এবং মহিষাডাঙ্গার দুটি দল এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতায় দুটি দল যৌথভাবে প্রথম এবং দুটি দল দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিব। সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. তাকদীর আহসান রুবেল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ, সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আলম বাবু, যুগ্ম সম্পাদক মমতাজুর রহমান চন্দন, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম, বিএনপি নেতা মাসুম বিল্লাহ শাহিন, পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু রায়হান, সাধারণ সম্পাদক জে.এম. দুদায়েভ খান অর্ঘ্য, সাবেক যুবদল নেতা তাজুল ইসলাম রিপন, সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খুরশিদ আলম, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাকির হোসেন আফিল, ধুলিহর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক হোসেন মিঠু, সাবেক সভাপতি কবির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ছাত্রনেতা সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
নৌকা বাইচ দেখতে দুপুরের পর থেকেই বেতনা নদীর দুই পাড়ে ভিড় জমাতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীতে ভরে ওঠে বেতনা পাড়। নদীর পাড়, সড়ক ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা উপভোগ করেন রোমাঞ্চকর এ প্রতিযোগিতা।
নৌকা বাইচের ধারাভাষ্য প্রদান করেন মো. আশরাফ হোসেন। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন শেখ দিদারুল ইসলাম খোকা, আব্দুল্লাহ সানা সাইফুল্লাহ ও শহিদুল।
দীর্ঘ বিরতির পর বেতনা নদীতে এমন আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
মন্তব্য করুন