বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৯ আশ্বিন ১৪৩৩ | সময়:
admin
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৪৬ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ১৪ দল

ডেস্ক রিপোর্ট: হতাশা ও ক্ষোভের মধ্য দিয়ে চলতে থাকা ১৪ দল এখন অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। গত নির্বাচনের পর এ জোটের কোনো তৎপরতা দৃশ্যমান হয়নি।

বিদ্যমান পরিস্থিতি জোটের ভবিষ্যতকে অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ১৪ দলের নেতারা।
১৪ দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগামীতে ১৪ দলের জোটের অস্তিত্ব থাকবে কিনা এ প্রশ্নটি এখন সামনে চলে এসেছে। এ ব্যাপারে জোটের নেতাদের অনেকেই তেমন কোনো আশা দেখছেন না। এর জন্য তারা জোটের প্রধান দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে দায়ী করছেন। শুধু ১৪ দলের জোটই নয়, এ জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যেও যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে অচিরেই কোনো কোনো দলের মধ্যে সংকট দেখা দিতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করছেন।

১৪ দলের নেতাদের মতে, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই ১৪ দলের সংকট ও জোটের দলগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগের দূরত্ব তৈরি হয়। তাদের অভিযোগ, জোট সঙ্গীদের বিষয়ে আওয়ামী লীগের উদাসীনতা ও গুরুত্বহীন বিবেচনা করে উপেক্ষা করা থেকে এ দূরত্ব বাড়তে থাকে। আর এর মধ্য দিয়েই জোটের দলগুলোর নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা, ক্ষোভের জন্ম নেয়। এটা গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন ভাগাভাগির সময় আরও বড় আকার ধারণ করে। এতে জোট সঙ্গীদের হতাশা ও ক্ষোভ আরও বেড়েছে। আওয়ামী লীগের দূরত্ব রেখে চলা এবং জোট সঙ্গীদের হতাশা ও ক্ষোভ সব মিলিয়ে জোটকে অস্তিত্ব সংকটের দিকে নিয়ে গেছে বলে জানান নেতারা।

তবে এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ কোনো কথা বলতে চাচ্ছেন না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ১৪ দলের এক নেতা জানান, যেহেতু জোটের অবস্থার উন্নতি বা জোটকে এগিয়ে নেওয়ার তেমন কোনো উদ্যোগ বা সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না, তাই এ ব্যাপারে কেউ আগ বাড়িয়ে কথা বলে দায়ভার নিজের ওপর নিতে চায় না।

১৪ দলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও জোটোর সদস্য সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বাংলানিউজকে বলেন, ১৪ দলের এখন কোনো তৎপরতা নেই, স্থবির হয়ে আছে। সবাই হতাশার মধ্যে আছে। স্থবিরতা কবে কাটবে সেটাও জানি না।

এদিকে ১৪ দলের একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ১৪ দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগ যে দূরত্ব দেখা যায় তা জোট পরবর্তী অন্য কোনো সময়ে দেখা যায়নি। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালে ১৪ দল গঠন হয়। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আন্দোলনসহ বেশ কিছু কর্মসূচিকে প্রাধান্য দিয়ে এ জোট যাত্রা শুরু করে। একসঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচন ও সরকার গঠনের অঙ্গীকারও ছিল এ জোটের। গত তিনটি নির্বাচন এবং প্রথম ও দ্বিতীয়বারের সরকারে জোট সঙ্গীরা থাকলেও তৃতীয় ও চতুর্থবারের (বর্তমান) সরকার আওয়ামী লীগ এককভাবে গঠন করে। জোটের রাজনীতিতে এ বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে করছেন না ১৪ দলের নেতারা। সর্বশেষ নির্বাচনে আসন ভাগাভাগিতে জোট সঙ্গীদের যে কয়টি আসন ছেড়ে দেওয়া হয় সেটাও তারা প্রত্যাশা করেননি। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে আওয়ামী লীগ যে একলা চল নীতি গ্রহণ করেছে গত নির্বাচন এবং সরকার গঠনের পর সেটা আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে ১৪ দলের ওই নেতারা মনে করছেন।

সূত্রগুলো আরও জানায়, নির্বাচন এবং সরকার গঠনের পর প্রায় দুই মাস পেরিয়ে যেতে চললে জোটের কোনো বৈঠক বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট সঙ্গীদের আনুষ্ঠানিক কোনো যোগাযোগ হয়নি। জোটের দলগুলো তাদের বক্তব্য তুলে ধরারও কোনো সুযোগ পায়নি। এ বিষয়টিতেও জোটের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতিতে জোটের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও ১৪ দলের প্রয়োজনীয়তা এখনও আছে বলে জোট নেতাদের কেউ কেউ মনে করেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট নেতাদের বৈঠক হলে জোটের সমস্যা-সম্ভাবনার বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে তাদের ধারণা।

এ বিষয়ে জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বাংলানিউজকে বলেন, ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু জানিয়েছেন কিছুদিনের মধ্যে জোটের সভা হবে। এরপর ১৪ দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও আমাদের সভা হবে। এ দুটি সভার পর আমরা ১৪ দলের পরবর্তী পরিকল্পনা কী তা ঠিক করবো। যে উদ্দেশে ১৪ দল গঠন হয়েছিল তার কিছু কাজ হয়েছে, কিছু কাজ এখনও বাকি আছে। অতএব ১৪ দলের প্রাসঙ্গিকতা এখনও আছে বলে আমি মনে করি।

এ বিষয়ে কমিউনিস্ট কেন্দ্রের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অসিত বরণ রায় বাংলানিউজকে বলেন, নির্বাচন ও সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীকে ১৪ দলের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেচ্ছা জানানো হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর সময় পাওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ১৪ দল নেতাদের দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তবে এখনও কোনো কিছু জানানো হয়নি। আমরা অপেক্ষা করছি, দেখা যাক কী হয়।

এদিকে এ জোটের কোনো কোনো দলের নেতারা মনে করছেন, ১৪ দলের বর্তমান যে অবস্থা এভাবে চলতে থাকলে জোটভুক্ত দলগুলো রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ১৪ দল যখন গঠন হয় তখন এ দলগুলো রাজনৈতিকভাবে কম বেশি তৎপর ছিল। বাম ফ্রন্ট ও ১১ দল নামে দুটি জোটে থেকে এ দলগুলো আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলে ও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকে। তাছাড়া প্রতিটি দল কম বেশি নিজস্ব কর্মসূচি নিয়ে রাজনীতিতে তৎপর ছিল। এখন এ দলগুলোর দুয়েকটি ছাড়া অধিকাংশেরই কোনো তৎপরতা নেই, নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। যেসব দলের সাংগঠনিক ক্ষমতা আছে সে দলগুলোও কর্মসূচির অভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছে। এতে দলের অভ্যন্তরীণ সংকট দেখা দিচ্ছে। নেতৃত্বের প্রতি কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। অতীতে ১৪ দলভুক্ত কয়েকটি দল একাধিক ভাঙনের মুখোমুখিও হয়েছে। আগামীতে কোনো কোনো দলের মধ্যে এমন সংকটও দেখা দেখা দিতে পারে। পরিবর্তন আসতে পারে বর্তমান নেতৃত্বেরও। আগামী ৬ মাসের মধ্যে ১৪ দলের জোটে সংকট, কোনো কোনো দলে সংকট, নেতৃত্বের পরিবর্তন এ রকম ঘটনার মতো কিছু ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে এ জোটের দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আশাশুনির নয়াবাদে স্বামীর নির্মম নির্যাতনে হাসপাতালে স্ত্রী

কালিগঞ্জ সিনিয়র সিটিজেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভা

কালিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভূমি অফিস পরিদর্শনে এমপি রবিউল বাশার

ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ

পাইকগাছায় কৃষকদলের বিক্ষোভ মিছিল

কালিগঞ্জে যুবদলের আনন্দ মিছিল

চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন বাড়ি ভাঙচুর ও মারপিটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

সাতক্ষীরায় এবি পার্টির কমিটি গঠন: আহ্বায়ক শাকিল, সদস্য সচিব শাহীন

সাতক্ষীরা জেলা শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের কমিটি গঠন: সভাপতি রাসেল, সম্পাদক গাজী বাবু

গাছের ডালে ঝুলছিল ১১ ফুটের অজগর, উদ্ধারের পর সুন্দরবনে অবমুক্ত

১০

৬ লাখ মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান সাতক্ষীরার যুবরা

১১

দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল

১২

সাতক্ষীরায় মানবাধিকার সাংবাদিক নেটওয়ার্ক’র সভা

১৩

দেবহাটায় যুবদলের আনন্দ মিছিল

১৪

মুক্তিযোদ্ধার ভাড়া দেওয়া দোকানে আগুন, তিন দিনেও হয়নি মামলা

১৫

জলবায়ু সপ্তাহ উপলক্ষে শ্যামনগরে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

১৬

শিশু হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন

১৭

শ্যামনগরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান নিয়ে দুই দিনের প্রশিক্ষণ

১৮

কালিগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে দুইপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫

১৯

কয়রায় বিএনপির মিছিল-সমাবেশ

২০