
ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ আসনের জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহা. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, বিগত ১৫ বছর তালা-কলারোয়ায় কোনো উন্নয়ন হয়নি। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যদি আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন তাহলে আগামী পাঁচ বছরে তালাকে পৌরসভা এবং পাটকেলঘাটাকে উপজেলা করার ব্যাপারে আমরা আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব। একই সাথে তালা-কলারোয়া উপজেলাকে চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত করার ব্যাপারে সর্বপ্রথম প্রচেষ্টা চালানো হবে। তালা-কলারোয়ার জলবদ্ধতা নিরসনে প্রচেষ্টা চালানো হবে, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট কার্পেটিং করে মেরামত করা হবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বলফিল্ডে উপজেলা জামায়াত আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী যদি সরকার গঠন করতে পারে তাহলে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করা হবে এবং সংসদের কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে নারী মন্ত্রী করা হবে।
ইজ্জত উল্লাহ বলেন, চাঁদা না দেওয়ায় শিশু কন্যাকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথে হিরন্মময় মন্ডলকে যেভাবে প্রহার করা হয়েছে, তাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন প্রশাসনকে জানিয়েছি। প্রশাসন যদি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে জামায়াত ও ছাত্রশিবির কর্মীরাই এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। তারা (প্রতিপক্ষ) যে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করছে এর বিরুদ্ধে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবো এবং তাদের নিরাপত্তার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব। এই এলাকার হিন্দু ও খ্রিস্টান ভাইদের নিরাপত্তার ব্যাপারে আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব এবং তাদের জন্য আমরা পর্বতসম দেয়াল নিয়ে দাঁড়িয়ে যাব।
তিনি আরো বলেন, এই এলাকার হিন্দু ও খ্রিস্টান ভাইদের নিরাপত্তার ব্যাপারে আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করলাম। মায়ের কোলে শিশুরা যেমন নিরাপদ থাকে ঠিক সেই ভাবে তালা-কালোরোয়ায় আপনারাও নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন। আমরা নির্বাচিত হতে পারলে পাটকেলঘাটার মন্দির ও শ্মশানঘাটগুলো আধুনিকায়ন করার ক্ষেত্রে আমরা ভূমিকা রাখবো।
অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, ৫ আগস্টের পরে এই এলাকার ব্যবসায়ীরা যেভাবে চাঁদাবাজির শিকার হয়েছে, সন্ত্রাস সৃষ্টি করা হয়েছে, তাদের সম্পদ লুট করা হয়েছে, এভাবে আর চলতে দেয়া যাবে না। তালা-কলারোয়ার ব্যবসায়ী ও হিন্দুরা ৫ আগস্ট পরবর্তী যে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল, তাদের সম্পদ লুট করা হয়েছিল, টাকা পয়সা লুট করা হয়েছে, এটা আর করতে দেয়া হবে না ইনশাল্লাহ। পাটকেলঘাটা বাজারকে আধুনিকায়ন করব এবং তালা ও কলারোয়ার সকল ব্যবসায়ী যাতে নিরাপত্তার সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে সেই ব্যাপারে আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে। কোন ব্যবসায়ীকে যাতে আর চাঁদা দিতে না হয় সেই ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরো বলেন, পাটকেলঘাটাকে উপজেলা করার পাশাপাশি একটি হাসপাতাল করার ক্ষেত্রে আমরা ভূমিকা রাখব। তাই আগামী ১২ তারিখের ব্যাপারে আপনারা এখন থেকেই সতর্ক হোন। ইতোমধ্যে আমাদের কাছে তথ্য আসছে কালো টাকা ছড়ানো হচ্ছে, এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করা হচ্ছে, ভোটারদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই এই কালো টাকা ও সন্ত্রাস প্রতিরোধের জন্য পাড়ায় পাড়ায় আপনারা দুর্গ গড়ে তুলুন এবং আপনারাই এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। জামায়াত নেতাকর্মীদের নিয়ে তালা-কলারোয়ায় ভোটারদের হেফাজত করতে হবে। যাতে ১২ তারিখে তারা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন।
তালা-কলারোয়ায় নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের আগে তারা হিরন্ময়কে আঘাত করেছে। নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি। তারা আরো অনেক কিছু করতে পারে। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে। আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিতে চাই আর কোন হিরন্ময় যেন আঘাতপ্রাপ্ত না হয় সেজন্য আপনাদেরকে ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি আপনারা ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হন তাহলে তালা-কলারোয়ার জনগণ এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং ভোটারদেরকে হেফাজত করবে।
এসময় তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দাঁড়িপাল্লায় ভোট প্রদানের পাশাপাশি সংবিধান সংশোধনের জন্য হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহবান জানান।
তালা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি ইদ্রিস আলীর সঞ্চালনায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, জেলা শিবিরের সভাপতি জোবায়ের হোসেন, নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা, ডা. মাহমুদুল হক, সহকারী সেক্রেটারি গাজী সুজায়েত আলী, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ওসমান গণি, রাবি শিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসান, জকসুর এজিএস মাসুদ রানা, শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি ইমামুল ইসলাম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ডা. আফতাব উদ্দীন, মাওলানা ওমর আলী, কলারোয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা কামরুজ্জামান, সাতক্ষীরা পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি খোরশেদ আলম, প্রসাদ সরকার, পাটকেলঘাটা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ শেখ প্রমুখ।

মন্তব্য করুন