বাংলাদেশ, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬
২৫ কার্তিক ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২:৪৪ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

কেশবপুরে ধানে ফলস স্মাট রোগের প্রাদুর্ভাব

জি. এম. মিন্টু, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুর উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানে ফলস স্মাট (লক্ষীর গু.) রোগের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক জমির ধানের শীষে স্বাভাবিক দানার পরিবর্তে কমলা বা হলুদ রঙের গুটির মতো ছত্রাকের উপস্থিতি রয়েছে। যা মূলত ধানের ফলস স্মাট রোগের লক্ষণ এবং ফলনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কেশবপুর উপজেলায় প্রায় ১৩,৫৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে চাষ হওয়ায় প্রাথমিকভাবে ভালো ফলনের আশা করা হলেও ফলস স্মাট রোগের কারণে কৃষকদের মাঝে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কেশবপুর উপজেলার আলতাপোল গ্রামের কৃষক জি. এম. মনিরুজ্জামান বলেন, আমার জমিতে ধানের শীষ বের হওয়ার পর থেকেই এই রোগ দেখা যাচ্ছে। আগে ভাবছিলাম পোকা লেগেছে, কিন্তু পরে দেখি দানার জায়গায় হলুদ-কমলা গুটি হয়েছে। এতে অনেক ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও হঠাৎ করে এ ধরনের রোগের আক্রমণ তাদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব জমিতে পানি কিছুটা বেশি সময় ধরে থাকে এবং যেখানে অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়েছে, সেসব জমিতে রোগের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।

কেশবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ধানের ফলস স্মাট একটি ছত্রাকজনিত রোগ, যা সাধারণত শীষ বের হওয়ার সময় আক্রমণ করে। এতে দানার পরিবর্তে গুটি তৈরি হয় এবং ধানের গুণগত মান ও উৎপাদন উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই সময়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, এ বছর উপজেলায় ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হয়েছে এবং ফলনের সম্ভাবনাও ভালো। কিন্তু কিছু এলাকায় ফলস স্মাট রোগ দেখা দেওয়ায় আমরা ইতোমধ্যে কৃষকদের সচেতন করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছি। কৃষকদের সুষম সার প্রয়োগ, জমির পানি নিষ্কাশন এবং রোগাক্রান্ত শীষ দ্রুত অপসারণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, এই রোগ মূলত আর্দ্র আবহাওয়া, অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার ব্যবহার, ঘন রোপণ এবং জমিতে পানি জমে থাকার কারণে দ্রুত বিস্তার লাভ করে। বিশেষ করে টানা বৃষ্টি ও বেশি আর্দ্রতা থাকলে এর সংক্রমণ বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফলস স্মাট রোগ দমনে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। যেমন, রোগমুক্ত ও উন্নত মানের বীজ ব্যবহার, সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ, জমিতে পানি জমে না থাকার ব্যবস্থা করা, আক্রান্ত শীষ সংগ্রহ করে ধ্বংস করা ও প্রয়োজন অনুযায়ী ছত্রাকনাশক প্রয়োগ।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শ্যামনগরে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

১

৩৯ বছর বয়সে মেসির নতুন ইতিহাস, আবারও জিতলেন গোল্ডেন বুট

২

মালয়েশিয়ায় চাকরির জন্য প্রাথমিকভাবে ৩০০ জন নির্বাচিত

৩

তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলা

৪

মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী: বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণের নিভৃতচারী কারিগর || ‎তারিক ইসলাম

৫

কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তি বৃদ্ধিতে আলোচনা

৬

সুন্দরবনে সক্রিয় ১২ দস্যু বাহিনী, সামনে এলো গাবুরার আমির ও দাতিনাখালীর আলমের নাম

৭

পাইকগাছায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

৮

দেবহাটায় জামায়াতের রুকন সম্মেলন

৯

তালায় জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

১০

মালদ্বীপকে উড়িয়ে সেমির আশা বাঁচিয়ে রাখল পাকিস্তান

১১

ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন রোগী ২৩৩৩

১২

সাতক্ষীরায় অ্যারাইজ ২২৪১ ধানের মাঠ দিবস

১৩

পরীমনির কর্মকাণ্ড শিল্পী সমাজের জন্য কলঙ্ক: রিনা খান

১৪

সাতক্ষীরায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

১৫

সুন্দরবনে মুক্তিপণের দাবিতে ১১ জেলেকে অপহরণের অভিযোগ

১৬

প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণে প্রাধান্য পাচ্ছে যেসব ইউনিয়ন পরিষদ

১৭

কাবার সামনে দাঁড়িয়ে ‘বিয়ের’ খবর দিলেন নাজনীন নীহা!

১৮

দেশে গ/ণ/পি/টু/নিতে অক্টোবরে প্রা/ণ গেল ৩২ জনের

১৯

প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন: ইসি

২০