বাংলাদেশ, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৮ আশ্বিন ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২:৪৪ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

কেশবপুরে ধানে ফলস স্মাট রোগের প্রাদুর্ভাব

জি. এম. মিন্টু, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুর উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানে ফলস স্মাট (লক্ষীর গু.) রোগের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক জমির ধানের শীষে স্বাভাবিক দানার পরিবর্তে কমলা বা হলুদ রঙের গুটির মতো ছত্রাকের উপস্থিতি রয়েছে। যা মূলত ধানের ফলস স্মাট রোগের লক্ষণ এবং ফলনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কেশবপুর উপজেলায় প্রায় ১৩,৫৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে চাষ হওয়ায় প্রাথমিকভাবে ভালো ফলনের আশা করা হলেও ফলস স্মাট রোগের কারণে কৃষকদের মাঝে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কেশবপুর উপজেলার আলতাপোল গ্রামের কৃষক জি. এম. মনিরুজ্জামান বলেন, আমার জমিতে ধানের শীষ বের হওয়ার পর থেকেই এই রোগ দেখা যাচ্ছে। আগে ভাবছিলাম পোকা লেগেছে, কিন্তু পরে দেখি দানার জায়গায় হলুদ-কমলা গুটি হয়েছে। এতে অনেক ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও হঠাৎ করে এ ধরনের রোগের আক্রমণ তাদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব জমিতে পানি কিছুটা বেশি সময় ধরে থাকে এবং যেখানে অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়েছে, সেসব জমিতে রোগের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।

কেশবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ধানের ফলস স্মাট একটি ছত্রাকজনিত রোগ, যা সাধারণত শীষ বের হওয়ার সময় আক্রমণ করে। এতে দানার পরিবর্তে গুটি তৈরি হয় এবং ধানের গুণগত মান ও উৎপাদন উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই সময়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, এ বছর উপজেলায় ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হয়েছে এবং ফলনের সম্ভাবনাও ভালো। কিন্তু কিছু এলাকায় ফলস স্মাট রোগ দেখা দেওয়ায় আমরা ইতোমধ্যে কৃষকদের সচেতন করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছি। কৃষকদের সুষম সার প্রয়োগ, জমির পানি নিষ্কাশন এবং রোগাক্রান্ত শীষ দ্রুত অপসারণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, এই রোগ মূলত আর্দ্র আবহাওয়া, অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার ব্যবহার, ঘন রোপণ এবং জমিতে পানি জমে থাকার কারণে দ্রুত বিস্তার লাভ করে। বিশেষ করে টানা বৃষ্টি ও বেশি আর্দ্রতা থাকলে এর সংক্রমণ বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফলস স্মাট রোগ দমনে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। যেমন, রোগমুক্ত ও উন্নত মানের বীজ ব্যবহার, সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ, জমিতে পানি জমে না থাকার ব্যবস্থা করা, আক্রান্ত শীষ সংগ্রহ করে ধ্বংস করা ও প্রয়োজন অনুযায়ী ছত্রাকনাশক প্রয়োগ।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শ্যামনগরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান নিয়ে দুই দিনের প্রশিক্ষণ

কালিগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে দুইপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫

কয়রায় বিএনপির মিছিল-সমাবেশ

তালায় ২৯ জন উপকারভোগীর মাঝে ছাগল, ভেড়া ও ঘর বিতরণ

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন

নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে সার্ভিস প্রোভাইডারদের তালিকাভুক্তকরণ বিষয়ক মতবিনিময়

দক্ষিণ শ্রীপুর কুশুলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ

দেবহাটায় যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

কালিগঞ্জে গ্রামীণ সড়কের কোর রোড নেটওয়ার্ক ও অগ্রাধিকার নির্ধারণে কর্মশালা

সাতক্ষীরায় যুবদলের প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল

১০

ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড

১১

সরকারি হাসপাতালের সামনে কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া হবে না

১২

ঘণ্টায় ৩৫০ কিমি গতির বুলেট ট্রেন তৈরি করছে ভারত

১৩

দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়াম

১৪

এক হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবি, সরকারকে আইনি নোটিশ

১৫

ডিআইজিসহ ৩১ পদে রদবদল

১৬

প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া বাড়ল ১৭ পয়সা

১৭

সাতক্ষীরায় ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

১৮

চট্টগ্রাম-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান গ্রেপ্তার

১৯

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ইস্যুতে আইএমএফের শর্ত নেই: তথ্য উপদেষ্টা

২০