
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চাঁদে ৫৩ বছর পর ফের নভোচারী পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (১ এপ্রিল) মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের চার নভোচারী কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ‘ওরিয়ন’ ক্যাপসুলে চড়ে এ ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করেন। সর্বশেষ ১৯৭২ সালে চাঁদে নভোচারী পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের চার নভোচারী হলেন-
রিড ওয়াইজম্যান
রিড ওয়াইজম্যান মার্কিন নৌবাহিনীর টেস্ট পাইলট থেকে মহাকাশচারী হয়েছেন।
২০১৪ সালে তিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ছয় মাস ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন। ছোটবেলা থেকেই উড়োজাহাজের প্রতি তার বিশেষ টান ছিল। তবে অবাক করা ব্যাপার হলো তার নাকি উচ্চতা ভীতি আছে, বিবিসির প্রতিবেদনে এমনটাই জানানো হয়েছে। তিনি আর্টেমিস-২ এর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করছেন।
মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে জন্ম নেওয়া ওয়াইজম্যান ২০২০ সালে ক্যান্সারে তার স্ত্রীকে হারান। এরপর একাই দুই কন্যাকে বড় করছেন। তিনি বলেন, সিঙ্গেল অভিভাবক হওয়া জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, আবার সবচেয়ে আনন্দের।
ক্রিস্টিনা কোচ
ক্রিস্টিনা কোচ একজন প্রকৌশলী ও পদার্থবিজ্ঞানী।
তিনি ২০১৩ সালে নাসার মহাকাশচারী হন। ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে টানা ৩২৮ দিন অবস্থান করেছিলেন। এর মাধ্যমে একজন নারীর হিসেবে এককভাবে দীর্ঘ সময় মহাকাশযাত্রার রেকর্ড গড়েন।
ক্রিস্টিনা কোচ মিশিগানের গ্র্যান্ড র্যাপিডসে জন্ম নেন এবং নর্থ ক্যারোলিনায় বেড়ে ওঠেন। চন্দ্রাভিযানে যাওয়া প্রথম নারী অভিযাত্রী তিনি।
জেরেমি হ্যানসেন
জেরেমি হ্যানসেন রয়্যাল কানাডিয়ান এয়ার ফোর্সের সাবেক ফাইটার পাইলট ও পদার্থবিজ্ঞানী। তিনি ২০০৯ সালে কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সিতে যোগ দেন। তিনি আগে কখনো মহাকাশে যাননি। তবে নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে নতুন মহাকাশচারীদের প্রশিক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিন এই কাজে নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম কানাডিয়ান।
জেরেমি হ্যানসেন তিন সন্তানের জনক। তার অবসর কাটে নৌযান চালিয়ে, রক ক্লাইম্বিং ও মাউন্টেন বাইকিং করে।
কোচের মতো হ্যানসেনের মহাকাশপ্রেম শুরু হয়েছিল অ্যাপোলো-৮ এর অনুপ্রেরণা থেকে। ছোটবেলায় গ্রামে থাকার সময় বাজ অলড্রিনের চাঁদে দাঁড়িয়ে থাকা ছবি দেখে কল্পনার মহাকাশযান বানিয়েছিলেন হ্যানসেন।
ভিক্টর গ্লোভার
ভিক্টর গ্লোভার মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক ফাইটার পাইলট ও টেস্ট পাইলট। তিনি ২০১৩ সালে নাসার মহাকাশচারী নির্বাচিত হন। তিনি স্পেসএক্স ক্রিউ-১ মিশনের পাইলট ছিলেন। গ্লোভার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে একপেডিশন ৬৪-এর অংশ হিসেবে প্রায় ছয় মাস কাটিয়েছেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার পোমোনায় জন্ম নেওয়া গ্লোভার চার সন্তানের বাবা। এই অভিযানে অংশ নিয়ে তিনি হয়েছেন চাঁদে ভ্রমণকারী প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ। পরিচিতরা এই চারজনের মধ্যে তাকে সবচেয়ে ক্যারিশম্যাটিক ও স্টাইলিশ মনে করেন।
মন্তব্য করুন